নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি | ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড’ (NRL) থেকে এই ডিজেল আমদানি করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় মোট ১৪.৬২ বিলিয়ন (১,৪৬২ কোটি) টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন’ (BPC) এই ডিজেল আমদানির দায়িত্ব পালন করবে। আমদানির মোট খরচের একটি অংশ বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করবে এবং বাকি অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের (অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সহযোগী সংস্থা) সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমদানির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয় হচ্ছে আনুমানিক ১১৯.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারের হারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ব্যারেলে ৮৩.২২ মার্কিন ডলার (এটি পরিবর্তনশীল)। প্রিমিয়াম প্রতি ব্যারেলে ৫.৫০ মার্কিন ডলার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত ১৫ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনেই এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। মূলত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আসামের নুমালিগড় থেকে পরিশোধিত এই ডিজেল প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে আনা হয়। সেখান থেকে ১৩১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন’ (IBFPL)-এর মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই পাইপলাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে ডিজেল পরিবহনের খরচ ও সময়—উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থির দামের মাঝে ভারতের সাথে এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে সেচ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের চাহিদা মেটাতে এই পাইপলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।