তিন স্থলবন্দর বন্ধ, আরেকটির কার্যক্রম স্থগিত করল বাংলাদেশ সরকার

ঢাকা, ২৯ আগস্ট – ব্যয় সাশ্রয় ও অকার্যকর অবকাঠামোর কারণে সীমান্ত সংলগ্ন তিনটি স্থলবন্দর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি আরও একটি বন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপে করদাতাদের অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।

সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, রংপুরের নীলফামারির চিলাহাটি স্থলবন্দর, চুয়াডাঙার দৌলতগঞ্জ স্থলবন্দর এবং রাঙামাটির তেগামুখ স্থলবন্দর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দর-এর কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘‘দেশের বহু স্থলবন্দরই কার্যত নিষ্ক্রিয়। পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু হয়নি। অথচ সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ও জনবল ব্যয় হচ্ছে। তাই অকার্যকর বন্দরগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

প্রেস সচিব আরও জানান, আগের সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় একাধিক সীমান্ত এলাকায় স্থলবন্দর অনুমোদন দিয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক লেনদেন গড়ে ওঠেনি। সেই কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে আরও চারটি স্থলবন্দর বন্ধ করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

চিলাহাটি বন্দর কোচবিহারের হলদিবাড়ির লাগোয়া, দৌলতগঞ্জ বন্দর নদিয়ার মাজদিয়ার সংলগ্ন এবং তেগামুখ বন্দর মিজোরাম সীমান্তের কাছে অবস্থিত। বাল্লা বন্দরটি ত্রিপুরার কাছাকাছি হলেও প্রয়োজনীয় ভারতীয় অবকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগের অভাবে তার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে স্থলবন্দরগুলির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এই পথ ব্যবহার করে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানে পণ্য পাঠায়। তবে তিনটি বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়বে না বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। চলতি বছরের মে মাসে ভারত সরকার বাংলাদেশি পোশাক, ফল, সুতো ও আসবাবপত্রসহ কয়েকটি পণ্যের স্থলপথে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

বাংলাদেশ সরকারের দাবি, নতুন সিদ্ধান্তে দেশের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ হবে এবং কার্যকর বন্দরগুলিতে বাণিজ্য আরও সুসংহত করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *