নিউজ ফ্রন্ট, ঢাকা, ১২ অক্টোবর:
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ১৫ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। এই ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন বর্তমান কর্মরত কর্মকর্তা, এবং একজন অবসরোত্তর ছুটিতে (LPR) আছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
শনিবার ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিরোধী নেতাদের গুম, আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় সম্পৃক্ততার। এই দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ICT। তবে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রাক্তন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
অভিযোগের প্রকৃতি
দুটি পৃথক মামলায় এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রথম মামলায় ১৭ জন, যার মধ্যে শেখ হাসিনাও রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ — বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গোপনে অপহরণ করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (RAB) অধীনস্থ তথাকথিত TFI (Task Force Interrogation) সেল-এ নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দ্বিতীয় মামলায় ১৩ জন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ — সেনা গোয়েন্দা সংস্থা DGFI-এর অধীন Joint Interrogation Cell (JIC)-এ বন্দিদের নির্যাতন করা হয়েছিল। প্রতিটি মামলায়ই মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে গুম, হত্যা, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ অন্তর্ভুক্ত।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে। আমরা ন্যায়বিচার, দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার পক্ষে।” তিনি আরও জানান যে, ICT থেকে অফিসিয়াল চার্জশিট এখনো হাতে পাওয়া যায়নি। তবে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আটক করেছে। “চার্জশিট হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে,” যোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তদের মধ্যে মেজর জেনারেল কবির নামে এক কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর নোটিশের জবাব দেননি এবং বর্তমানে নিখোঁজ বলে জানা গেছে। ICT-এর নির্দেশ অনুযায়ী, সব অভিযুক্তকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলি দায়ের হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও নির্যাতনের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে। ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ, বিচারপতি মো. গোলাম মোর্তুজা মজুমদার-এর নেতৃত্বে, গত বুধবার এই পরোয়ানা জারি করে। প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দুটি মামলার অভিযোগপত্র উপস্থাপন করেন এবং গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন জানান, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে।