তুলসী মালা পরে স্কুলে আসা নিষেধ! বারাসতের স্কুলে বিতর্কের ঝড়

প্রধান শিক্ষিকার ফতোয়ায় হৈচৈ, সভাপতির ধমক খেয়ে পরে ব্যাখ্যা দিলেন

নিউজ ফ্রন্ট, বারাসত, ২০ জুন: তুলসী মালা পরে স্কুলে আসা যাবে না – এমন নির্দেশনা জারি করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পড়েছেন বারাসত নবপল্লী যোগেন্দ্রনাথ বালিকা বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী দত্ত চক্রবর্তী। স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এই বার্তা পাঠানোর পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী দত্ত চক্রবর্তী স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তুলসী মালা পরে স্কুলে আসা যাবে না। এই নির্দেশনা স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে এই ঘটনার কথা জানতে পারার পর স্কুল কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষিকাকে এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে বলেন। সভাপতির কাছ থেকে ধমক খাওয়ার পর প্রধান শিক্ষিকা তার অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য এগিয়ে আসেন।

সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রধান শিক্ষিকা ইন্দ্রানী দত্ত চক্রবর্তী জানান, তুলসীর মালা মাটিতে পড়ে যেতে এবং সেই মালা ছাত্রীদের পায়ে লাগতে দেখে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “তুলসী একটি পবিত্র গাছ এবং তার মালা মাটিতে পড়ে অসম্মানিত হতে দেখে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

আশ্চর্যজনকভাবে, পুরো ঘটনায় ছাত্রীরা তাদের প্রধান শিক্ষিকাকে সমর্থন করছে বলে জানিয়েছে। তারা বলেছে যে প্রধান শিক্ষিকার উদ্দেশ্য ভাল ছিল এবং তুলসীর সম্মান রক্ষার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক ছাত্রী বলেন আমাদের স্কুলে শুধুমাত্র তুলসী মালা না,  হিজাব বোরখা এগুলোও কিন্তু  পরে আসা যায় না। কোনও নির্দিষ্ট একটি ধর্ম কে অনুমতি না দেওয়া এটা ঠিক না ।   

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি চম্পক দাস জানিয়েছেন যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিটির সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল। তিনি বলেন,  “স্কুল কোনও ভাবেই ছাত্রীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে না।  ধর্মীয় বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়ার আগে সবার মতামত নেওয়া জরুরি।”

স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রধান শিক্ষিকার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অনেকে এটিকে ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন। একজন অভিভাবক বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে এভাবে নিষেধাজ্ঞা উচিত নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *