ওবিসি সংরক্ষণ পুনর্বহালের দাবিতে উত্তাল বহরমপুর: এসআইও’র মহাপদযাত্রা, ডিএম অফিসে ডেপুটেশন

বহরমপুর, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫:

“ওবিসি নীতির পুনর্বহাল, সমন্বিত শিক্ষাঙ্গন, কর্মসংস্থানের উদ্ভাবন”—এই শিরোনামে ছাত্র সংগঠন এসআইও (SIO) মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার উদ্যোগে বহরমপুরে এক বিশাল পদযাত্রা ও ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত ছাত্র-যুবের অংশগ্রহণে টেক্সটাইল মোড় থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে স্কোয়ার ফিল্ডে শেষ হয়। এরপর জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে জেলা শাসক (DM) দপ্তরে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

সমাবেশে উপস্থিত থেকে এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ইমরান হোসেন ওবিসি সংরক্ষণ নীতির পুনর্বহাল নিয়ে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ওবিসি কোটার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো ছাত্রছাত্রী ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কোচবিহার, বাঁকুড়া, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ফলাফলে কোনো ওবিসি মুসলিমের নাম না থাকাকে তিনি এই বৈষম্যের “জ্বলন্ত প্রমাণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইমরান হোসেন বলেন, “পূর্বের ওবিসি নীতি মুসলিমদের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। ওবিসি নিয়ে কোনো রাজনৈতিক চক্রান্ত এবং বর্তমান সরকারের অবহেলা আমরা মেনে নেব না।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে এই নীতি পুনর্বহাল না হলে আন্দোলন নবান্ন পর্যন্ত পৌঁছাবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর কলেজ স্কোয়ার থেকে বিধানসভা পর্যন্ত মহামিছিল নিয়ে দাবি আদায় করতে যাবে এসআইও।

উত্তর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আহমাদ আলী মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা-বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৮০ লক্ষ জনসংখ্যার মুর্শিদাবাদ জেলা স্বাধীনতার আট দশক পরেও শিক্ষা-অবকাঠামোর ঘাটতি ও বৈষম্যের শিকার। তিনি অবিলম্বে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করেন। তাঁর দাবি, দ্রুত জেলার সমস্ত কলেজকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা, নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণ, পর্যাপ্ত স্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ছাত্র সমাবেশে দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়নাল আবেদীন এবং জেলা শিক্ষা আন্দোলনের কনভেনর মোহাম্মদ সাহীন শওকাত আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। মোহাম্মদ সাহীন শওকাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আহিরণ ক্যাম্পাস চালু হলেও গত ১৫ বছরে মাত্র ৩–৪টি কোর্স শুরু হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এখানে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন কোর্স চালু করার দাবি জানান। জয়নাল আবেদীন নদী ভাঙনে বাস্তুচ্যুত ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ চালু করার দাবি জানান। এছাড়া প্রতিটি মহকুমায় একটি করে আইন কলেজ এবং গার্লস কলেজ স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।

এদিনের কর্মসূচিতে জামাআতে ইসলামী হিন্দ মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতি শামসুল আলম এবং এসআইও পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য রাসেল কাইজার সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *