রাণীনগর, মুর্শিদাবাদ, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫:
মুর্শিদাবাদ জেলাজুড়ে পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ (IPS)-এর নির্দেশে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারে যখন কড়া অভিযান চলছে, ঠিক তখনই সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বাড়িতে বোমা রেখে ফাঁসানোর চেষ্টার পাশাপাশি লাগাতার হুমকির ফলে আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার এমনই দাবি করেছে পরিবার। এই ঘটনায় রাণীনগর বিধানসভা এলাকার চাকরানপাড়ায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে ১৭০০-র বেশি বোমা উদ্ধার করেছে , ৩০ টির বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এই কঠোর অভিযানের মধ্যেই রাণীনগর থানার পুলিশ চাকরানপাড়ার একটি বাড়িতে বোমা মজুত থাকার খবর পেয়ে চিরুনি তল্লাশি চালায়। যদিও ওই বাড়ি থেকে কোনো বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি।
মৃত শিরিনা বিবির ছেলে ও মেয়ের অভিযোগ, “স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও তার অনুগামীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই আমাদের বাড়িতে বোমা রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, তারা বাড়িতে ঢুকে আমাদের অকথ্য ভাষায় হুমকিও দেয়।” পরিবারের দাবি, এই পুরো ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শিরিনা বিবি। পুলিশ ভ্যানে করে তাঁকে গোধনপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, সেখান থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাণীনগর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বোমা রেখে ফাঁসানোর চেষ্টায় এক মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় মানুষজন ক্ষুব্ধ। মৃতের স্বামী ৭ জনের বিরুদ্ধে রাণীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাণীনগর থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
বোমা উদ্ধার অভিযানের আবহে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ এখন ঘটনার আসল সত্য উদঘাটনে সক্রিয় হয়েছে।