শিয়ালদহে বাঙালি পড়ুয়াদের ওপর হামলা, অভিযুক্ত দুই ব্যবসায়ী গ্রেফতার

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ২১ আগস্ট:
উত্তর কলকাতার শিয়ালদহ এলাকায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মোবাইল কভারের দাম নিয়ে তর্কের জেরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রকে নির্মম মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা অভিযোগ অনুযায়ী ওই পড়ুয়াদের ‘বাংলাদেশি’ ও ‘রোহিঙ্গা’ বলে গালাগাল করে। ঘটনায় গুরুতর আহত হন চার ছাত্র, যাদের মধ্যে দু’জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারমাইকেল হোস্টেলের চার ছাত্র শিয়ালদহ রেল ব্রিজের নিচে মোবাইল কভার কিনতে যান। দাম নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে প্রথমে তর্ক হয়। এসময় পড়ুয়ারা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলছিলেন। সেই সূত্র ধরে দোকানদার ও আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ ও ‘রোহিঙ্গা’ বলে অপমান করেন। তর্কাতর্কি থেকে শুরু হয় হাতাহাতি, পরে তা বড় আকারের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের একদল লাঠি, হকি স্টিক, এমনকি ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন চারজন ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আক্রান্তদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। আহতদের দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

ঘটনার পর শিয়ালদহ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর বৃহস্পতিবার পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩ (স্বেচ্ছায় আঘাত), ৩৪ (অপরাধে সম্মিলিত অভিপ্রায়), ৫০৪ (ইচ্ছাকৃত অপমান) এবং ৫০৬ (অপরাধমূলক ভয় দেখানো) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগও যুক্ত করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

হামলার পরেই ছাত্র মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের সহপাঠীরা রাতেই মুচিপাড়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান এবং দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানান। অনেক ছাত্রছাত্রীই প্রশ্ন তুলেছেন—“নিজেদের শহরে বাংলায় কথা বললে কেন হামলার শিকার হতে হবে?” তাঁদের দাবি, পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, বাংলার রাজধানীতে ভাষা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে এমন আক্রমণ অত্যন্ত লজ্জাজনক। শাসকদল অবশ্য বলছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই প্রথম নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে শিয়ালদহগামী ট্রেনে একইভাবে ‘বাংলাদেশি’ বলে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সমাজে বিভেদ ও অবিশ্বাসের বিপজ্জনক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, কোনোভাবেই এই ধরনের ঘৃণা ছড়ানো বা হামলা বরদাস্ত করা হবে না অভিযুক্তদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।” জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিয়ালদহ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

সুত্রের খবর যদিও এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় কাম্পাসের বাইরে তবুও বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ে মাথা ঘামাতে চাইছে। আজকেই হোস্টেলের সুপার কে ডেকে পাঠানো হয়েছে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *