রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল কোটি কোটি টাকার নোট
লা পাজ (বলিভিয়া), ২৮ ফেব্রুয়ারি: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর একটি বিশাল সামরিক বিমান অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জনাকীর্ণ রাস্তায় আছড়ে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর দুর্ঘটনাস্থলে নতুন ছাপা নোট ছড়িয়ে পড়ায় চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর একটি লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস (Lockheed C-130 Hercules) বিমান এল অল্টো আন্তর্জাতিক বিমানতলায় নামার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। জানা গেছে, প্রবল শিলাবৃষ্টি এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রানওয়ে অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। বিমানটি রানওয়েতে স্থির থাকতে না পেরে ছিটকে বেরিয়ে যায় এবং পাশের একটি ব্যস্ত রাস্তায় আছড়ে পড়ে। রাস্তার ওপর থাকা প্রায় এক ডজন যানবাহনের ওপর বিমানটি আছড়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে বিমানের ক্রু সদস্য ছাড়াও রাস্তার সাধারণ পথচারী এবং গাড়ির যাত্রীরা রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর দিক হলো ‘টাকার বৃষ্টি’। বিমানটি বলিভিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের জন্য নতুন ছাপা নোট বহন করছিল। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বিমানের ভেতর থেকে ২০, ৫০ এবং ১০০ বলিভিয়ানো মূল্যের অসংখ্য নোট রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই মানুষ প্রাণভয়ে না পালিয়ে বরং রাস্তায় পড়ে থাকা নোটগুলো কুড়োতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে জলকামান এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়।
বলিভিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ছড়িয়ে পড়া এই নোটগুলো এখনো আইনত লেনদেনের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে দেন “যে নোটগুলো ছড়িয়ে পড়েছে সেগুলো বর্তমানে বাজারে ব্যবহারের জন্য বৈধ নয়। সাধারণ মানুষকে এই নোটগুলো সংগ্রহ বা ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।”
বলিভিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিমান বাহিনী দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বরফ জমে রানওয়ে পিচ্ছিল হওয়াকেই প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর এল অল্টো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।