গৌহাটি, ২০ সেপ্টেম্বর
অসমের আকাশে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অসমের সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গ। তাঁর প্রয়াণে গোটা অসম যেন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ঢেউ।
অসমের প্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গৌহাটি থেকে শিবসাগর, জোরহাট থেকে কোকরাঝাড়— সর্বত্র চলছে স্মরণসভা, মোমবাতি প্রজ্বলন, গান গেয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন।

গৌহাটী:
অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (AASU) ঘোষণা করেছে সাত দিন ধরে তাদের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। লতাশীল খেলার মাঠে শিল্পীর স্মরণসভা ডেকেছে সংগঠন। হাজারো অনুরাগীর ভিড়ে মুখরিত গৌহাটি শহর।
শিবসাগর:
স্থানীয়রা জুবিনের প্রতিকৃতির সামনে ফুল ও মোমবাতি অর্পণ করেন। লেখক-শিল্পী-অভিনেতারা তাঁর জনপ্রিয় গান ‘মায়াবিনী রাতির বুকু’ গেয়ে শ্রদ্ধা জানান। শেষকৃত্য না হওয়া পর্যন্ত চলবে এই জনসমাগম।
জোরহাট (জুবিনের জন্মভূমি):
দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। জেলা কেন্দ্রীয় পূজা কমিটি মহালয়ার সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। জুবিনের শোকাচ্ছন্ন শহরে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।

জ্যোতি চিত্রাবন, গৌহাটি:
এখানে আয়োজিত এক শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী নেতা দেবব্রত শইকিয়া, বিধায়ক রেকিবুদ্দিন আহমেদ, চিত্রাবনের চেয়ারপার্সন বিদ্যা সাগর, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য ভক্ত।
গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়:
৫০০-এর বেশি মোমবাতি জ্বালিয়ে ছাত্রছাত্রীরা শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর জনপ্রিয় গান গেয়ে তাঁকে স্মরণ করলেন তাঁরা।

কোকরাঝাড়:
শুক্রবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণসভা করেন। বোডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়নের চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার প্রমোদ বোরো গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
জুবিন গার্গ শুধু একজন গায়কই ছিলেন না, ছিলেন সংস্কৃতির আইকন। তাঁর গান, তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর সুর – সবকিছু মিলিয়ে তিনি ছিলেন অসমের আত্মার অংশ। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন হাজারো অনুরাগী।
অসমবাসীর একটাই কথা— “একটা যুগ শেষ হয়ে গেল।”