নিউজ ফ্রন্ট, দুর্গাপুর, ১১ অক্টোবর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় গত সন্ধ্যায় একজন দ্বিতীয় বর্ষের মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানার পর থেকে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ শুরু করেছে এবং স্থানীয় জনজীবনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের সংবাদ অনুযায়ী, পীড়িতা (নাম প্রকাশ করা হয়নি) ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা। অভিযোগ—শুক্রবার সন্ধ্যা আড়াইটার দিকে ছাত্রী এক বান্ধবীর সঙ্গে রাতের খাবার খেতে বের হন; ফিরে আসার পথে কলেজ সংলগ্ন এক নির্জন স্থলে অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক তাঁকে আটক করে এবং এরপর ওই ঘটনার ঘটনাটি ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর বান্ধবী রাত ১০টায় তাদের ফোন করে বিষয়টি জানায়। আক্রান্ত ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে—এর সংক্রান্ত প্রাথমিক চিকিৎসা রিপোর্ট ও মামলার কপি পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, পীড়িতার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের কল-লগ, নিকটস্থ সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের ফরেনসিক নিদর্শন ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বিবরণ সংগ্রহ করছেন। পুলিশ জোরালোভাবে বলেছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত-প্রক্রিয়া চালানো হবে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা শনাক্তকৃত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার প্রতিবাদে দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা সশরীরে বিক্ষোভ করে—মানববন্ধন, ক্যাম্পাস গেট অবরোধ ও নীরবতা পালনসহ নানা কর্মসূচি চলছিল। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার, তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা ও কলেজ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রতিক্রিয়া নিয়ে তৎপর হওয়ার কথা জানিয়েছেন; তবে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও অপেক্ষিত।
এছাড়াও, কলকাতার বন্দর এলাকায় এক দিব্যাঙ্গ মহিলার সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই সংক্রান্ত শুক্রবার বন্দর বিভাগের অন্তর্গত নাদিয়াল পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এবার আবার দুর্গাপুর থেকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় সেঠ ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থায় পৌঁছে গেছে এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তা নিয়ে সরাসরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও প্রশাসনকে দ্রুত অভিযুক্তদের ধরার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ বজায় আছে; বিশেষত দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের নারীরানিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জেলার কিছু নাগরিক সংগঠন এবং মহিলা অধিকার সংস্থাগুলোও নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার দাবি করে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে—তদন্তের স্বচ্ছতা রক্ষার লক্ষ্যে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তারা জনসাধারণকে বিন্দুমাত্র জল্পনা ছড়াতে না বলেছে এবং অভিযোগকারী পরিবার ও গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীবিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাতে কোনো ধরনের বাধা না ঘটে সে ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনার পর দুর্গাপুরে এবং রাজ্যের অন্যান্য অংশে নারী নিরাপত্তা ও কলেজ-প্রাঙ্গণ নিরাপত্তার বিষয়টি পুনরায় নজরে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ-প্রকাশ ও প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ধৈর্য্যশীল ও আইনী পদ্ধতি মেনে চলে ন্যায় নিশ্চিত করার আহ্বান করছে বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা।