বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ:
মুর্শিদাবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা শেষ হতে না হতেই জেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো প্রভাবশালী তৃণমূল সদস্যা শাহনাজ বেগমকে। বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবীরের এলাকা রেজিনগর থেকে নির্বাচিত শাহনাজকে সরিয়ে দিয়েছেন স্বয়ং সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা।
এই ঘটনায় জেলা পরিষদে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, গ্রুপ থেকে সরানোর কারণ জানতে না চেয়েই অন্য মহিলা সদস্যরাও প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চ ঘিরে বিতর্ক: ‘দ্বিচারিতা‘র অভিযোগ
শাহনাজ বেগমকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করার তাৎক্ষণিক কারণ তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে পাওয়া যায়। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সভায় মহিলা কর্মাধ্যক্ষদের বসার ব্যবস্থা নিয়ে সভাধিপতির ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি গ্রুপে লিখেছিলেন “আজকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় কিছু কর্মাধ্যক্ষ মঞ্চে, কিছু কর্মাধ্যক্ষ মঞ্চের নিচে, বিশেষ করে মহিলা কর্মাধ্যক্ষগণ। জেলা মহিলা সভানেত্রীও নিচে… সভাধিপতির উচিত ছিল সমস্ত কর্মাধ্যক্ষকে উপরে বসতে না দিলে তারও নিচে নেমে এসে সহকর্মীর পাশে বসা। এই ধরনের দ্বি-চারিতা অনভিপ্রেত।” এই মেসেজ দেওয়ার পরই তাঁকে গ্রুপ থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে শাহনাজ বেগম দাবি করেন।
দুর্নীতির অভিযোগ ও খোলা চিঠি– বিতর্কের আসল কারণ?
শাহনাজ বেগম, যিনি একসময় জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারি সভাধিপতি এবং তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী ছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের আগেই তাঁর ফেসবুক পেজে জেলা পরিষদের দুর্নীতি নিয়ে একটি ‘খোলা চিঠি‘ লিখেছিলেন।
তিনি গুরুতর অভিযোগ করেন “জেলা পরিষদের অনিয়ম-বেনিয়ম, কাজে অনগ্রসরতা, মিটিং না ডাকা এসব নিয়ে দল এবং প্রশাসনকে বহুবার বলেছি… দলের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রত্যেক পদাধিকারী তার পদ বাঁচাতে মরিয়া।” তিনি তৃণমূলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা জেলা পরিষদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এমসিইটি (MCET) কলেজের অচলাবস্থা এবং বন্ধ আরএন টেগোর (RN TAGORE) হাসপাতালের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরব হয়েছিলেন। এই বিষয়ে ৩ তারিখে সন্ধাবেলায় সভাধিপতিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চান নি।
শাহনাজ বেগম, যিনি ২০১৮ সালে রেজিনগরে বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন এবং যাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস/সিপিআইএম সদস্যদের দল ভাঙিয়ে তৃণমূল জেলা পরিষদ দখল করেছিল, তিনি তাঁর অপসারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শাহনাজ বলেন, “এটা সভাধিপতির ব্যক্তিগত গ্রুপ নয়, জনপ্রতিনিধিদের গ্রুপ। আমাকে গ্রুপ থেকে সরানোর আগে শো-কজ করতে হবে। সাধারণ সভায় তা পাস করাতে হবে। সেটা সভাধিপতি জানেন না?”
সম্প্রতি জেলা পরিষদের সিপিআইএম সদস্য ইমরান হোসেন সভাধিপতির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপপ্রয়োগে’র অভিযোগ আনেন। তিনি সেদিন জেলা পরিষদের সাধারন সভায় নতুন জেলা শাসকের উপস্থিতিতে প্রশ্ন তুলেছিলেন আমরা বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত তাই আমাদের জেলাপরিষদের অফিসিয়াল গ্রুপে রাখা হয় না। ইমরান হোসেন বলেন “তিনি (শাহনাজ) জেলা পরিষদে আমাদের মতো সরব ছিলেন শাসক দলের সদস্য হয়েও। তাই হয়তো কথাগুলো গায়ে লেগেছে বলে সভাধিপতি ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেছেন। জেলা পরিষদে চলছে একনায়কতন্ত্র।”
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার পর ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সেটিং পরিবর্তন করে ‘অনলি অ্যাডমিন‘ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানাকে ফোন বা মেসেজ করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। জেলা পরিষদের মেন্টর শাওনি সিংহ রায় জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানেন না।