জন বার্লার পর এবার শঙ্কর মালাকার! উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ‘পাওয়ার প্লে’?

নিউজ ফ্রন্ট | ০৪ জুন

সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ জন বার্লা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবার পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যায়। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ও দার্জিলিং জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি শঙ্কর মালাকার। আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।

তৃণমূল ভবনে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে শঙ্কর মালাকারের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।  বলেন, ” ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি উত্তরবঙ্গ নিয়ে ছারখার নিয়ে করছে। একদিকে কামতাপুরী, একদিকে গোর্খাল্যান্ড, আবার কখনও উত্তরবঙ্গ ভাগ করার চক্রান্ত চলছে। কংগ্রেসে থেকে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করা অসম্ভব,একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃতে  তৃণমূল কংগ্রেস পারবে বিজেপিকে ঠেকাতে। শাসক দলে না থাকলে মানুষের জন্য উন্নয়ন করা যায় না তাই সেই উন্নয়নে  যোগ দিতেই তৃণমূলে যোগ।”

রাজনৈতিক জীবনে শঙ্কর মালাকার দীর্ঘদিন দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন। ১৫ বছর ধরে জেলা সভাপতির পদে থেকে দার্জিলিং-এর কংগ্রেস সংগঠনকে ধরে রেখেছিলেন তিনি। এক সময় বিধায়ক হিসেবেও তিনি নির্বাচিত হন। সুদীর্ঘ কংগ্রেস জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন মালাকার। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি কংগ্রেসের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগেই দুপুরে  কংগ্রেস শঙ্কর মালাকারকে দলীয় সমস্ত পদ থেকে অপসারণ করে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এক বিবৃতিতে জানান, শঙ্কর মালাকারকে দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে এবং জাতীয় কংগ্রেসের সকল দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং জেলা কংগ্রেস পরিচালনার জন্য চার সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অরূপ বিশ্বাস বলেছেন, “পিচে অনেক সুইং আছে, অপেক্ষা করুন। আমরা কাউকে ভাঙাচ্ছি না, কেউ যদি স্বেচ্ছায় আসে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।”

শঙ্কর মালাকারের দলত্যাগে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “শঙ্কর মালাকার দীর্ঘদিনের নেতা ছিলেন, আমার সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি চলে যাওয়ায় আমি খুব দুঃখ পেয়েছি। জানি না কেন চলে গেলেন, কিন্তু এটা ভাবতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে যে, তিনি আর কংগ্রেসে নেই।”

সম্প্রতি বিজেপি থেকে তৃণমূলে এসেছেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জন বার্লাও। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেস দু’পক্ষই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘দল ভাঙানোর রাজনীতি’ করার অভিযোগ তুলেছে। তবে তৃণমূলের পালটা যুক্তি, কোনও নেতাই জোর করে নয়, স্বেচ্ছায় যোগ দিচ্ছেন, কারণ তাঁরা রাজ্যে উন্নয়নের সঙ্গে থাকতে চান।

উত্তরবঙ্গে সংগঠন জোরদার করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আবার সক্রিয়ভাবে কৌশল নিচ্ছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জন বার্লা ও শঙ্কর মালাকারের দলবদল তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, জন বার্লা ও শঙ্কর মালাকারের মতো হেভিওয়েট নেতারা যখন একে একে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছেন, তখন কি ফের উত্তরবঙ্গে সংগঠন বাড়াতে তৃণমূল নতুন কৌশল নিচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে আগামী সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *