নিউজ ফ্রন্ট | নদিয়া | ১৬ অক্টোবর:
নদিয়ার নবদ্বীপে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। চন্দ্রবোড়া সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের ছোবলেই প্রাণ হারালেন স্থানীয় সর্পপ্রেমী যুবক দ্বীপ বালা (২৫)। তাঁর সাহসিকতা ও সাপ উদ্ধারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই ভাইরাল হতো। কিন্তু এইবারের প্রচেষ্টা হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ অভিযান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে নবদ্বীপ থানার প্রতাপনগর এলাকায় একটি গৃহস্থের বাড়ির আশেপাশে চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মেলে। খবর পেয়ে দ্বীপ বালা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাপ উদ্ধার করতেন, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হাতে ছিল একটি লাঠি ও একটি প্লাস্টিকের জারএবারও খালি হাতে সাপ ধরার চেষ্টা করেন তিনি।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি প্রথমে লাঠি দিয়ে সাপের মাথা চেপে ধরেন, তারপর লেজ ধরে টেনে আনেন। বেশ কিছুক্ষণ সাপটিকে নিয়ে খেলা করেন। নিজের মোবাইল থেকে সাপের ভিডিও এবং ছবি তোলেন। কিছুক্ষণ পরে সতর্কতার সঙ্গে সাপটির মাথা ধরে জারের ভিতর ঢোকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জারের ঢাকনা বন্ধ করার মুহূর্তে চন্দ্রবোড়াটি তাঁর হাতে ছোবল মারে। তৎক্ষণাৎ সাপটিকে ছেড়েও দেন দ্বীপ। বিষ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্বীপের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তৎক্ষণাৎ তাঁকে স্থানীয় প্রতাপনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে বুধবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দ্বীপের পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছোটবেলা থেকেই প্রাণীপ্রেমী ছিলেন। পেশাদার প্রশিক্ষণ না থাকলেও ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সাপ ধরার কৌশল শিখেছিলেন। প্রায়ই সাপ উদ্ধার করে বনদফতরের হাতে তুলে দিতেন বা জঙ্গলে ছেড়ে দিতেন। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ওর সাহস আর ভালোবাসাই কাল হয়ে দাঁড়াল। আমরা বহুবার বলেছি সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে, কিন্তু ও বলত, সাপ ওর বন্ধুর মতো।” এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, দ্বীপকে “নবদ্বীপের স্নেকম্যান” নামে চিনতেন সবাই। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সঞ্চার করেছে।
ভারতে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে যেখানে সর্প উদ্ধারকারীরা নিজেরাই সাপের কামড়ে প্রাণ হারান। ২০১৯ সালে ব্যারাকপুরে এক সাপপ্রেমী যুবকও চন্দ্রবোড়ার কামড়ে মারা যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাগুলো সাপ উদ্ধারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতির দিকটি স্পষ্ট করে।
দ্বীপ বালার মৃত্যু সাপপ্রেমী সমাজে গভীর দুঃখের সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতার বার্তা হিসেবে ধ্বনিত হয়েছে। সর্প সংরক্ষণে তাঁর অবদান স্মরণীয় হলেও, বিশেষজ্ঞরা একবাক্যে বলছেন “প্রাণ বাঁচানোই প্রথম কর্তব্য। সাপ উদ্ধার প্রশিক্ষণ ছাড়া নয়।” দ্বীপ বালা হয়তো চিরবিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর মতো বহু তরুণকে এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেবে প্রকৃতি ও প্রাণীকে ভালোবাসা প্রশংসনীয়, কিন্তু তা কখনোই নিজের জীবনের বিনিময়ে নয়।