উৎসবে কেউ বাদ নেই! বানজেটিয়ায় গ্রামের দুঃস্থ শিশু ও প্রবীণদের নিয়ে ‘প্রীতি-স্মৃতি’র অনন্য বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মুর্শিদাবাদ: ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে শুরু হয়েছে ২০২৬। নতুন বছরের প্রথম দিনটি যখন শহরবাসী দামী রেস্তোরাঁ বা নামী পর্যটন কেন্দ্রে কাটাচ্ছেন, তখন মুর্শিদাবাদের বানজেটিয়ার ছবিটা ছিল একটু অন্যরকম। গ্রামের দুঃস্থ কচিকাঁচা আর একাকীত্বে ভোগা প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটাতে এক অভিনব বর্ষবরণের আয়োজন করল প্রীতি-স্মৃতি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বানজেটিয়ার আকাশ-বাতাস মুখরিত ছিল কচিকাঁচাদের কলতানে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই বনভোজনে সামিল হয়েছিলেন এলাকার ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণরা। বছরের প্রথম দিনে ভালো-মন্দ খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি চলল দেদার আড্ডা। একদিকে যখন ছোটরা খেলায় মত্ত, অন্যদিকে তখন গ্রামের প্রবীণরা মেতে উঠলেন পুরনো দিনের স্মৃতিচারণায়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এভাবেই সমাজের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে আসছে এই সংস্থাটি।

কেবল খাওয়া-দাওয়াই নয়, উৎসবের আনন্দে যাতে শীতের কামড় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য এদিন সংস্থার পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এদিন একটি নতুন পিকনিক স্পটেরও শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহরের বিশিষ্টজনেরা, যারা এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রীতি-স্মৃতি চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কর্ণধার সফিউল মুজনেবিন এই আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন শহরের মানুষ বা সচ্ছল পরিবারের জন্য বর্ষবরণ মানেই আনন্দ-উৎসব। কিন্তু গ্রামের দুঃস্থ মানুষ বা প্রবীণদের কাছে পিকনিকের আনন্দ অনেক সময় অধরা থেকে যায়। আমরা চেয়েছি সমাজের এই প্রান্তিক মানুষগুলোকে নিয়ে নতুন বছরের খুশি ভাগ করে নিতে। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা এটাই করার চেষ্টা করছি যাতে উৎসবের দিনে কেউ নিজেকে একা মনে না করেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *