ডিজিটাল বিপ্লবের নতুন অধ্যায় শুরু ইন্ডিয়ান মোবাইল কংগ্রেস ২০২৫-এ
নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লিঃ
ভারতের টেলিকম ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সাফল্যই আজ আত্মনির্ভর ভারতের শক্তির সবচেয়ে বড় প্রতিফলন — এমনটাই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বুধবার নয়াদিল্লির যশোভূমি আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইন্ডিয়ান মোবাইল কংগ্রেস (IMC) ২০২৫-এর উদ্বোধন করতে গিয়ে।
তিনি বলেন, “যে দেশ এক সময় ২জি পরিষেবার সমস্যায় ভুগত, আজ সেই দেশ প্রায় প্রতিটি জেলায় ৫জি সংযোগ পৌঁছে দিয়েছে। এক সময় যেটি বিলাসিতা ছিল, আজ তা সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আজকের ভারত শুধুমাত্র বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম বাজারই নয়, বরং ৫জি ব্যবহারেও বিশ্বের প্রথম সারিতে রয়েছে। তিনি বলেন, “ভারতে এক জিবি মোবাইল ডেটার দাম এক কাপ চায়ের দামের চেয়েও কম। এই সাফল্য দেখিয়ে দেয় — ডিজিটাল ভারতের ধারণা এখন শুধু শহরেই নয়, গ্রামীণ ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে।”
মোদী বলেন, ইন্ডিয়ান মোবাইল কংগ্রেস এখন আর শুধুমাত্র টেলিকম প্রদর্শনী নয়, বরং এশিয়ার বৃহত্তম ডিজিটাল ইনোভেশন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
তিনি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন —
“এটাই ভারতের মধ্যে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সেরা সময়। Make in India শুধু একটি নীতি নয়, এটি নতুন প্রজন্মের আত্মবিশ্বাস।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত এখন “মেড ইন ইন্ডিয়া ৪জি স্ট্যাক”-এর মাধ্যমে বিশ্বের মাত্র পাঁচটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে যাদের নিজস্ব টেলিকম প্রযুক্তি তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সাইবার সুরক্ষা, ডেটা সার্বভৌমত্ব, এবং ডিজিটাল গভর্নেন্স-এর বিষয়ও। তিনি বলেন, “ডিজিটাল যুগে ডেটা এখন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও সার্বভৌমত্বের দিক থেকে ভারত দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সাইবার অপরাধ দমন ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, ভারত আজ বিশ্বের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অন্যতম শীর্ষ দেশ। বর্তমানে দেশে ৯৪ কোটি ৪০ লক্ষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় রয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল নেটওয়ার্কগুলির একটি।
তিনি জানান, বিশ্বের ২০টি দেশ ভারতের ডিজিটাল জনপরিষেবা মডেল (Digital Public Infrastructure) গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চার দিনব্যাপী এই কংগ্রেসে ১৫০টি দেশ ও ৪০০-রও বেশি আন্তর্জাতিক টেলিকম ও টেক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এখানে প্রদর্শিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৬জি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), এবং আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পনেতা, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
“আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে ভারত শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করে না, প্রযুক্তি তৈরি করে। আত্মনির্ভর ভারত মানে আত্মবিশ্বাসী ভারত।”- মোদী
ইন্ডিয়ান মোবাইল কংগ্রেস ২০২৫ দেখিয়ে দিল — ডিজিটাল ভারতের স্বপ্ন আর দূর ভবিষ্যৎ নয়, এটি আজকের বাস্তব। টেলিকম থেকে সেমিকন্ডাক্টর, মোবাইল উৎপাদন থেকে স্টার্টআপ উদ্ভাবন — প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত আজ আত্মনির্ভরতার নতুন দিগন্ত ছুঁয়ে ফেলেছে।