নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ | ২৭ জুলাই, ২০২৫
সমাজের অন্ধকার কোণায় জমে থাকা অপরাধের জাল কখনও কখনও ফেঁসে ওঠে প্রশাসনের তৎপরতায়। নারীদের প্রতারণা ও শোষণের সেই অমানবিক পর্বের এক চিত্র ধরা পড়ল মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে। লোকচক্ষুর আড়ালে গড়ে তোলা হয়েছিল এক গোপন মধুচক্র, যেখানে শিকার করা হচ্ছিল তরুণী ও নাবালিকাদের। তবে এবার পুলিশের কড়া পদক্ষেপে ভেসে উঠল সেই অসামাজিক চক্রের মুখোশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে চালানো হয় অভিযান, উদ্ধার করা হয় এক নাবালিকা সহ দুই তরুণীকে, গ্রেফতার করা হয়েছে ছয় যুবককে। এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল—নারী সুরক্ষায় কেবল আইন নয়, চাই সকলে মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
বহরমপুর শহর লাগোয়া বলরামপুর দক্ষিণ কলোনি এলাকায় পুলিশের তৎপরতায় ফাঁস হল এক অসামাজিক কাজের আঁতুড়ঘর। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার সকালে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করল এক নাবালিকা সহ দুই নিগৃহীতা। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জন অভিযুক্ত যুবককে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অক্ষয় নুনিয়া দু’দিন আগে ভাড়া নেয় স্থানীয় শ্যামসুন্দর মণ্ডলের একটি বাড়ি। মাসিক ৭,০০০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে ওই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এরপরই সেখানে শুরু হয় অসামাজিক কার্যকলাপ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার সকালে অভিযান চালায় বহরমপুর থানার পুলিশ। অভিযানে অংশ নেন মহিলা অফিসার, ফোর্স এবং একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা হল গোলাম রসুল, অঙ্কুর রায়, সায়ন দাস, অমিত মণ্ডল, প্রীতম বারুই ,শম্পা শীল নুনিয়া এবং অক্ষয় নুনিয়া। ধৃতদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। ধৃতদের মধ্যে প্রথম চার জনের বাড়ি বহরমপুরে, প্রীতম বারুই এবং শম্পা সিল নুনিয়ার বাড়ি মুর্শিদাবাদ এবং অক্ষয় নুনিয়ার বাড়ি আজিমগঞ্জ।
তদন্তে উঠে এসেছে, অক্ষয় নুনিয়া ও তাঁর স্ত্রী শম্পা ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে মধুচক্রের আসর বসিয়েছিল। অভিযানে ওই বাড়ি থেকেই এক নাবালিকা সহ দুই নিগৃহীতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সুরক্ষার জন্য স্থানান্তরিত করা হয়েছে সেফ হোমে।
এই ঘটনায় বহরমপুর থানায় নির্দিষ্ট মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ITP অ্যাক্টের ৩/৪/৫/৬ ধারা, ৭০(২) বিএনএস (পূর্বতন ধারা ৩৭৬D) এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার ধৃতদের বহরমপুর আদালতে পেশ করা হবে।
সাম্প্রতিক কালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়ে চলা নারী পাচার ও যৌন শোষণের ঘটনার মধ্যে এই অভিযানকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। সমাজ সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকেও পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে।