পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় এসেছেন নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন উপনির্বাচন কমিশনার গ্যানেশ ভরতি। তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা ও রাজ্যে কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ৫ নভেম্বর:
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) কার্যক্রম শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাজ্যে এসে পৌঁছেছে।
দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার গ্যানেশ ভরতি, সঙ্গে রয়েছেন কমিশনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এস. বি. জোশি এবং ডেপুটি সেক্রেটারি অভিনব আগরওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
দলটি আগামী ৫ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের তিন জেলা – আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি সফর করবে। তারা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দলটি কিছু বুথও পরিদর্শন করবে এবং মাঠপর্যায়ের কাজের মান যাচাই করবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১৮ লক্ষ SIR ফর্ম বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) মাধ্যমে ভোটারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা অব্যাহত। দলের অভিযোগ, এটি আসলে কেন্দ্রের NRC (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি)-র “পেছনের দরজা দিয়ে বাস্তবায়ন”। গত কয়েক দিনে SIR নিয়ে আতঙ্কে আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার হাওড়ার উলুবেড়িয়া ও মুর্শিদাবাদের কান্দি এলাকায় দুই ব্যক্তির আত্মহত্যার খবর মিলেছে। এর আগে আরও দুইটি আত্মহত্যা এবং একটি আত্মহত্যার চেষ্টা এই আতঙ্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই সরকার কখনও নোটবন্দি, কখনও নাগরিকপঞ্জির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে। এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আবারও ভয় দেখানো হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন, SIR প্রক্রিয়াটিও তারই আরেক উদাহরণ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ইস্যুটি রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, SIR-এর উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক নয়, বরং ভোটার তালিকার যথাযথ সংশোধন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হবে। উত্তরবঙ্গ সফর শেষে প্রতিনিধি দল একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রস্তুত করবে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন যেখানে এই ইস্যুতে সরগরম, সেখানে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।