পুজোয় বাম্পার ‘গিফট’ মুখ্যমন্ত্রীর ! অনুদান বাড়ল, বিদ্যুৎ বিলে ৮০% ছাড়

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ৩১ জুলাই:

শারদোৎসবের প্রায় দুই মাস আগেই উৎসবের আমেজ বয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির জন্য একগুচ্ছ ‘পুজো উপহার’ ঘোষণা করে তিনি সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রতি বছর আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিলে ছাড়, এবং অন্যান্য সরকারি কর মকুবের যে ধারা মুখ্যমন্ত্রী শুরু করেছিলেন, এবার তাতে আরও বড় সংযোজন এসেছে।

বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, গত বছর পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া অনুদান ৮৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করা হবে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি পুজো কমিটি উপকৃত হবে। অনুদানের এই পরিমাণ একলাফে এতটা বেড়ে যাওয়ায় পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে খুশির ঢেউ বয়ে গেছে।

আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুজো কমিটিগুলি বিদ্যুতের বিলে এবার ৮০ শতাংশ ছাড় পাবে। এর আগে যা ছিল ৭৫ শতাংশ। এছাড়াও, ফায়ার লাইসেন্স-সহ সব ধরনের সরকারি ফি মকুবের ঘোষণাও বহাল রেখেছেন তিনি। এই ছাড়ের ফলে ছোট থেকে বড় সব পুজো কমিটিরই অনেকটা খরচ বাঁচবে।

অনুদানের পাশাপাশি এ বছরের কার্নিভালের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছরের দুর্গাপূজা কার্নিভাল হবে ৫ অক্টোবর, ২০২৫, রবিবার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে এই তারিখ ঘোষণা করেছেন।

এই বছর বিসর্জন চলবে ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর। এরপর ৫ অক্টোবর রেড রোডে দুর্গাপূজা কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বারবারই দুর্গাপুজোকে রাজ্যের একটি ‘প্রাণের উৎসব’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এর সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অর্থনীতি জড়িয়ে রয়েছে। ছোট-বড় বিভিন্ন পুজো কমিটি এই উৎসবে লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। সরকারের এই অনুদান ও ছাড়ের ফলে পুজো কমিটিগুলো আরও ভালোভাবে তাদের কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্লাবগুলিকে খুশি করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অনুদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানোর দাবি তুলেছেন।

তবে এই সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে, দুর্গাপুজোর আয়োজকরা এবং সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘পুজো উপহারে’ খুশি। সব মিলিয়ে, পুজোর প্রস্তুতি শুরু হওয়ার আগেই শহর ও জেলার পুজো কমিটিগুলোর মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *