বেলডাঙ্গায় তৈরি হবে ‘বাবরি মসজিদ’, সঙ্গে ২০০ বেডের হাসপাতাল ও মুসাফিরখানা! মেগা প্রজেক্টের রূপরেখা দিলেন হুমায়ুন কবীর

নিজস্ব সংবাদদাতা, বেলডাঙ্গা: অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের স্মৃতিকে উসকে দিয়ে এবার মুর্শিদাবাদের বুকেই তৈরি হতে চলেছে বাবরি মসজিদের প্রতিকৃতি। শুধু মসজিদ নয়, তার সঙ্গেই গড়ে উঠবে ২০০ শয্যার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং বিশাল মুসাফিরখানা। বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আগেই বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে এই স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন। এবার তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরলেন সেই মেগা প্রজেক্টের বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট। জানা গেছে, আগামী ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের শিলান্যাস হবে।

হুমায়ুন কবীর জানান, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কলকাতা বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি প্রথম এই ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ প্রসঙ্গে পীরজাদা তোহা সিদ্দিকী সরকারের কাছে মসজিদের আবেদন জানালেও, হুমায়ুন কবীরের মতে, মসজিদ কোনো সরকারি টাকায় হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭২ শতাংশ। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা মুসলিমদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। সেই আবেগকে মর্যাদা দিতেই আমরা নিজেদের অর্থায়নে, মানুষের দানে এই মসজিদ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

কী কী থাকছে এই প্রকল্পে?

জাতীয় সড়কের (NH) ধারে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কমপ্লেক্সে তিনটি প্রধান স্তম্ভ থাকছে:

অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে বা আবেগকে কেন্দ্র করে একটি বিশাল মসজিদ।

৫ তলা বিশিষ্ট একটি বিশাল ভবন তৈরি হবে, যেখানে অন্তত ২০০টি রুম থাকবে। মুর্শিদাবাদের মতিঝিল বা হাজারদুয়ারির মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আসা পর্যটক এবং মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা যাতে স্বল্প খরচে ও নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারেন, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

গরিব ও দুস্থ মানুষদের কথা ভেবে একটি ২০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, জেলার অনেক নার্সিংহোমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগীদের ঠকানো হয়। তাই এই হাসপাতালে ন্যূনতম খরচে অত্যাধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। আলআমিন মিশনের প্রাক্তন কৃতী ডাক্তারদের এখানে সেবা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে।

আগামী ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি ধ্বংসের দিনটিতেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা শিলান্যাস করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জাঁকজমক সম্পর্কে বিধায়ক জানান, শিলান্যাস করতে সৌদি আরব থেকে বিশেষ বিমানে কলকাতায় এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টারে বেলডাঙ্গায় আসবেন এক বিশিষ্ট ইমাম। তাঁর নামার জন্য প্রকল্পস্থলেই একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী ‘থাই হেলিপ্যাড’ তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারি সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ গণউদ্যোগে এই প্রকল্প হবে। ইতিমধ্যেই কাশ্মীর থেকে শুরু করে বীরভূমের বড় ব্যবসায়ী, ক্রাশার মালিক এবং সাধারণ মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ সিমেন্ট, কেউ রড, আবার কেউ নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে ‘বাবরি মসজিদ’ নামে ট্রাস্ট গঠন করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়। তাই অন্য নামে ১১ জন কোর সদস্য এবং ৫০০ জন সাধারণ সদস্যকে নিয়ে একটি ট্রাস্ট গঠন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। উত্তর দিনাজপুর থেকেও এক ব্যক্তি ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে জানান হুমায়ুন।

হুমায়ুন কবীর আশাবাদী, শিলান্যাসের পর আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে হাসপাতাল, মুসাফিরখানা এবং মসজিদ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা কেবল ধর্মীয় স্থান নয়, বরং মুর্শিদাবাদ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর জন্য পর্যটন ও স্বাস্থ্য পরিষেবার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *