নিউজ ফ্রন্ট ডেস্কঃ টোকিও, “অপারেশন সিন্দুর” নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল রয়েছেন জাপানে। সেখানে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানকে নিশানা করে বললেন, “সন্ত্রাসবাদ একটি উন্মত্ত কুকুর হলে, পাকিস্তান হল সেই বিকৃত পালক। বিশ্বকে আগে একত্রিত হতে হবে এই বিকৃত পালকের বিরুদ্ধে, নাহলে আরও উন্মত্ত কুকুর জন্ম নেবে।”
পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পেহেলগামের জঙ্গি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই TRF (The Resistance Front) নামে একটি জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করে। TRF আসলে লস্কর-ই-তৈবার একটি ছায়া সংগঠন, যাকে রাষ্ট্রসংঘ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা সকলেই জানি, কীভাবে পাকিস্তান লস্করকে দায়মুক্ত করতে মরিয়া চেষ্টা করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় বায়ুসেনার স্ট্রাইকের পরে যে সন্ত্রাসবাদীরা নিহত হয়, তাঁদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনা আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার ছবি আজও পাবলিক ডোমেইনে আছে। ক্যামেরা মিথ্যে বলে না।”
In Tokyo, as part of the All-Party Parliamentary Delegation, Shri @abhishekaitc shared India’s unwavering response to the Pahalgam attack and the collective resolve to stand strong, united, and honourable in the face of terrorism. pic.twitter.com/awVexILDDC
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) May 24, 2025
বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান
তিনি ভারতীয় প্রবাসীদের ‘দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাদের প্রতি আহ্বান জানান:
- ভারতের বার্তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন
- পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতার তথ্য ও ছবি শেয়ার করুন
- স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভারতের অবস্থান জোরালো করুন
প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে বার্তা
তিনি বলেন, “আপনারা যেখানে থাকেন না কেন, আপনি ভারতীয়। আপনারা ভারতকে ভালোবাসেন, বাঁচেন ভারতের জন্য। সুতরাং, ভারতীয় সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং আমাদের দৃঢ় অবস্থান বিশ্বের সামনে তুলে ধরাই আপনার কর্তব্য।”
কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক বার্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বিরোধী দলে থেকেও এটা বলছি—পাকিস্তানকে ওদেরই ভাষায় জবাব দিতে হবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত দায়িত্বশীল এবং নির্ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে, যা কখনও উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে এক কার্যকরী কূটনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁর বক্তব্যে যেমন রয়েছে স্পষ্টতা, তেমনই রয়েছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আর্জি—বিশ্বকে একত্রিত করে পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার দিকেই ইঙ্গিত করছেন তিনি