বিকাশ ভবন ছাড়লেও আন্দোলন থামবে না, জানালেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা

নিউজ ফ্রন্ট কলকাতাঃ হাইকোর্টের নির্দেশে অবশেষে বিকাশ ভবনের সামনে থেকে সরতে শুরু করেছেন ২০১৬-র এসএসসি নিয়োগে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। তবে আন্দোলনের জায়গা বদল হলেও, প্রতিবাদ বন্ধ হবে না—শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন তাঁরা।

হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, বিকাশ ভবনের পরিবর্তে সেন্ট্রাল পার্কের বইমেলার মাঠ লাগোয়া অঞ্চলে তারা অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে পারবেন। নির্দেশিকায় বলা হয়, প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে ২০০ জন আন্দোলনকারী অবস্থান করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো—যেমন জল, বায়ো টয়লেট ও অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থাও করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আইনকে সম্মান জানিয়ে তাঁরা বিকাশ ভবনের সামনের স্থান ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে যতক্ষণ না নির্ধারিত জায়গায় উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে ওঠে, ততক্ষণ তাঁরা পূর্ববর্তী স্থানে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

এদিন ধর্নার ১৮তম দিন। আন্দোলনকারীদের এক প্রতিনিধি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্নায় বসেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের কোনও দেখা হয়নি।” তিনি আরও জানান, সোমবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা না হলে, তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠকের দাবিতে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি, রাজ্যের সমস্ত সাংসদদের উদ্দেশে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে এই ইস্যুটি সংসদে তোলা যায়। তাঁদের আবেদন, শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সব সাংসদের উচিত একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা, যেখানে চাকরি ফেরানোর পথ খোঁজা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-র এসএসসি নিয়োগে অংশ নিয়েছিলেন যাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা ‘যোগ্য’ হয়েও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে চাকরি হারাতে বাধ্য হয়েছেন। আন্দোলনের মুখে শুক্রবার আদালত বিকল্প স্থানে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়।

তবে এই নির্দেশকে সম্মান জানিয়েই তাঁদের কথায়, “আমরা আইনের পথে চলি। তাই বিকাশ ভবনের সামনেই থাকব যতক্ষণ না নতুন জায়গায় উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলবেই—এটা থামার নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *