ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম

সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সংসদ হরমুজ প্রণালী বন্ধের অনুমোদন দেওয়ায় তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। সরবরাহ আশঙ্কা এবং মজুত হ্রাসে বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজ ফ্রন্ট, ২৩ জুনঃ

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার তেলের দাম জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলারে এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ৭৫ ডলারে উঠেছে। ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ।

উভয় বেঞ্চমার্কই ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল, তবে পরে সামান্য পিছিয়ে এসেছে। বিশ্বের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিচালনা করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধের জন্য ইরানের সংসদের অনুমোদনের পর বাজার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক ইরান, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান শত্রুতার মধ্যে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং দামের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

সরবরাহ আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে যে, গত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মজুদ ১১.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বাজারের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। এই অপ্রত্যাশিত মজুত হ্রাস অনিশ্চিত সরবরাহ পরিস্থিতির মধ্যে তেলের দামে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা ব্রেন্ট ক্রুডের টেকনিক্যাল সাপোর্ট ৭৪ ডলারের কাছাকাছি এবং রেসিস্টেন্স প্রায় ৭৬ ডলারে চিহ্নিত করেছেন, যা ভারতীয় টাকায় রেসিস্টেন্স ব্যারেল প্রতি ৬,৫৮০ থেকে ৬,৬৯০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলীর বিকাশের সাথে সাথে তেল বাজার অস্থির থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সংসদীয় অনুমোদন সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করলে তেহরানের নিজেরই আর্থিক ক্ষতি বেশি হতে পারে। এবং সেই সঙ্গে তার মিত্রদের জন্য বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি করবে। এই প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব এতটাই যে কেউ এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ করার সাহস দেখায়নি।। তেল ও গ্যাস সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার জেরে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *