অযোগ্য চিহ্নিত কর্মীদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তে আদালতের নিষেধাজ্ঞা
কলকাতা: আদালতের নির্দেশে অযোগ্য চিহ্নিত রাজ্যের গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা আজ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ প্রদান করেন।
২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই মামলার আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তিনি জানান, বিচারপতি চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা বক্তব্য জানাবেন আবেদনকারীরা।
SSC গ্রুপ সি ও ডি চাকরিপ্রার্থীদের ভাতা নিয়ে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চিটফান্ড কাণ্ড, ওবিসি রিজার্ভেশন, মুখ্যসচিব থেকে শিক্ষা সচিব পর্যন্ত কঠিন আক্রমণে একে একে সবাইকে বিঁধলেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২০১১ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভাতা দিয়ে যাচ্ছেন। আজ আদালতের রায়ে প্রমাণ হলো সেটা বেআইনি। যারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে ভাতা কেন?”
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ব্যাগ গোছান, জেলে যেতে হতে পারে!”
চাকরিহারা গ্রুপ সি ও ডি কর্মীদের ভাতা নিয়ে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “বন্ধু, তোমার পথের সাথীকে চিনে নাও!”
প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জান চৌধুরী বলেছেন, “বাংলার মানুষ ভাতা নয়, মর্যাদা চায়। মর্যাদার উপার্জন দ্বারা ভাত খেতে চায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অদক্ষতা ও অযোগ্যতার সর্বশেষ নিদর্শন হিসেবে সি-ডি ক্যাটাগরির চাকরি হারানো মানুষদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করার মাধ্যমে তিনি বেআইনি কাজ করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “সেই বেআইনি কাজকে হাইকোর্ট প্রশ্রয় না দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগ্য-অযোগ্য কারও কথা ভাবেন না, শুধুমাত্র ভোটের কথা ভাবেন।”
সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মতোই নিয়োগ দুর্নীতিতেও মুখ্যমন্ত্রীর নিষ্ঠুর ও অমানবিক রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই কারণেই কিছু মানুষ এখন মুখ্যমন্ত্রীর ‘মানবিক’ ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।তিনি আরও বলেন, “চিটফান্ডের সময় উনি প্রতারকদের পাশে ছিলেন, নিয়োগ দুর্নীতির সময় উনি অযোগ্যদের পাশে আছেন।”
এই হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। SSC নিয়োগ কেলেঙ্কারির পর এই ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্ক চলছিল। আদালতের এই নির্দেশের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই স্থগিতাদেশকে তাদের অবস্থানের পক্ষে একটি বড় জয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে শাসক দল এর আইনি দিকগুলো নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপর আবেদনকারীরা দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা বক্তব্য পেশ করবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।