নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় প্রশাসনিক কাঠামো আরও জোরদার

২৩ জেলায় ২৮ প্রোটেকশন অফিসার নিয়োগ, ৩৭টি শক্তি সদন চালু

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা: নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ থেকে শুরু করে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা পর্যন্ত ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে।

আজ রাজ্য বিধানসভায় নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাঁজা এই তথ্য জানান। তিনি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। গার্হস্থ্য হিংসা রুখতে রাজ্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২৩টি জেলায় ইতিমধ্যে ২৮ জন প্রোটেকশন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এই অফিসাররা গার্হস্থ্য হিংসার শিকার মহিলাদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন।

প্রোটেকশন অফিসারদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের আইনি পরামর্শ প্রদান, সুরক্ষা আদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা এবং পুনর্বাসন ও পরামর্শ সেবা সমন্বয়।

বিপদগ্রস্ত মহিলাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাজ্য জুড়ে ৩৭টি শক্তি সদন চালু করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং মহিলাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শক্তি সদনে প্রদান করা হচ্ছে নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আইনি সহায়তা।

মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নে রাজ্য সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে এই প্রকল্পে ২.১৫ কোটি মহিলা সহায়তা পাচ্ছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেয়ে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারছেন।

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বৃদ্ধিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৯৩ লক্ষের বেশি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মহিলারা পাচ্ছেন মাইক্রো ক্রেডিট সুবিধা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং।

রাজ্য সরকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও বেশি প্রোটেকশন অফিসার নিয়োগ, শক্তি সদনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থা উন্নত করা।মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ প্রাথমিকতা। আমরা এই ক্ষেত্রে আরও কার্যকর এবং ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছি।” এই সব উদ্যোগের ফলে রাজ্যে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, যা একটি নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *