পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা নিরসনে জেনেভায় কূটনৈতিক উদ্যোগ

ইরাণ-ইউরোপীয় পারমাণবিক আলোচনা আজ, ইজরাইল-ইরাণ সংঘাত সপ্তম দিনে

জেনেভা/মস্কো, ২০ জুন: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আজ শুক্রবার জেনেভায় গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইরাণের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ক আলোচনায় বসতে চলেছেন।

কূটনৈতিক প্রক্রিয়া

তিন ইউরোপীয় দেশের মন্ত্রীরা প্রথমে জেনেভায় জার্মানির স্থায়ী মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তারা ইরাণের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ বৈঠকে অংশ নেবেন।

এই ইউরোপীয় উদ্যোগটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর লক্ষ্য হলো ইরাণকে নিশ্চয়তা দিতে বাধ্য করা যে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে।

ইজরাইল-ইরাণ সংঘাত সপ্তম দিনে

ইজরাইল ও ইরাণের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আজ সপ্তম দিনে পড়েছে। গত সপ্তাহে ইজরাইল ইরাণের উপর ব্যাপক সামরিক আক্রমণ চালানোর পর ইরাণও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর তীব্র আক্রমণের ফলে এই অঞ্চলে সরাসরি সামরিক সংঘাত নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইজরাইলী প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে ইরাণ দক্ষিণ ইজরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

Photo: IranNewsX

রাশিয়ার সতর্কবাণী

রাশিয়া গুরুতর সতর্কবাণী দিয়ে বলেছে যে ইরাণে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাণ-ইজরাইল সংঘাতে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, “ওয়াশিংটন যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তা অত্যন্ত বিপদজনক পদক্ষেপ হবে এবং এর পরিণতি কতটা খারাপ হতে পারে, তা সত্যিই অপ্রত্যাশিত।”

পুতিনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরাণের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। পুতিন ইজরাইল ও ইরাণের মধ্যে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে তেহরাণ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারবে এবং ইজরাইলের নিরাপত্তার উদ্বেগও মেটানো হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যৌথভাবে ইজরাইলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট বলেছেন যে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় অংশীদাররা ইরাণের সাথে “আলোচনা পুনরায় শুরু” করতে প্রস্তুত। তবে এই আলোচনার শর্ত হলো ইরাণকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ থেকে “স্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” নিতে হবে।

আজকের জেনেভা বৈঠকটি এই সংঘাত শুরুর পর পশ্চিমা কর্মকর্তাদের সাথে তেহরাণের প্রথম সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে, যা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য ইউরোপের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।


এই প্রতিবেদনে রয়টার্স, এএফপি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *