সপ্তম দিনে ইজরায়েল ধ্বংস করল ইরানের নিরাপত্তা সদর দপ্তর

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা, তেহরানে ২০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় আঘাত

নিউজ ফ্রন্ট, ১৯ জুন: রাতভর মিসাইল বর্ষণের পর ইজরায়েল ঘোষণা করেছে যে তারা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সপ্তম দিন চিহ্নিত হলো।

ইজরায়েল জানিয়েছে যে তারা তেহরানে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে। এছাড়াও ইরানের করাজ শহর এবং পায়াম বিমানবন্দরের কাছে আরও বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ইরানের মিসাইল উৎপাদন কারখানাগুলিকে লক্ষ্য করেছে এবং তেহরানে ২০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপগুলি ইজরায়েলের দিকে বৃহৎ মিসাইল বর্ষণ করার ইরানের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।

একই সময়ে, ইরান জানিয়েছে যে তারা ইজরায়েলের দিকে মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। তেহরান নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সারাদেশে অস্থায়ীভাবে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ইজরায়েলের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের হামলা ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়েরও আশঙ্কা রয়েছে।

সপ্তম দিনে পৌঁছানো এই সংঘাত দেখাচ্ছে যে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নয়। ইজরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং ইরানের পাল্টা মিসাইল আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তেহরানে নিরাপত্তা সদর দপ্তর ধ্বংস এবং পরমাণু স্থাপনায় হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সংঘাত এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলিকেও প্রভাবিত করতে পারে এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ইরানের সারাদেশে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির গুরুত্ব নির্দেশ করে। এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইরানি সরকার দেশে অস্থিরতা ও বিক্ষোভের আশঙ্কা করছে।

ইজরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তাদের হামলা ইরানের মিসাইল উৎপাদন ও নিক্ষেপের সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এটি যদি সত্য হয়, তাহলে আগামী দিনগুলিতে সংঘাতের ধরন পরিবর্তন হতে পারে। সপ্তম দিনে পৌঁছানো এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই বলা কঠিন। তবে উভয় পক্ষের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *