খামেনেইয়ের সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করতে অনিচ্ছুক রুশ প্রেসিডেন্ট
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তির অধিকার রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত রয়েছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইজরায়েল ও আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চান না।
উল্লেখ্য যে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে অনুমান করেছেন যে, ইজরায়েলের সামরিক হামলার ফলস্বরূপ ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে আমেরিকা জানে খামেনেই কোথায় “লুকিয়ে” আছেন, তবে ওয়াশিংটন “আপাতত” তাঁকে হত্যা করতে যাচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট পুতিন আরও বলেছেন যে, “ইরান পারমাণবিক চুক্তির নিয়মকানুন মেনে চলেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে যায়। এরপরও ইউরোপ আশা করেছিল যে ইরান চুক্তি মেনে চলবে—এটা অন্যায়।”
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “আমেরিকা যখন প্রথমে চুক্তি ভেঙে ফেলেছে, তখন ইরান কেন তা মেনে চলবে?” এই মন্তব্যে পুতিন স্পষ্টভাবে পশ্চিমা নীতির সমালোচনা করেছেন।
পুতিনের এই বক্তব্য রাশিয়া ও ইরানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্যগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্ববাসী শঙ্কিত।এই ঘটনাবলি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বশক্তিগুলির মধ্যে মতানৈক্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।