উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ জুন: বেসরকারি দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থার বিষাক্ত রাসায়নিক নিঃসরণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যমগ্রামের ইছাপুর নীলগঞ্জের কৃষকরা। তিনফসলী জমিতে হাঁটু পর্যন্ত জলে ডুবে গেছে বিঘার পর বিঘা ফসল।
এই পরিবেশ দূষণের ফলে প্রায় ২০০ জন কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। দাদন নিয়ে চাষাবাদ করা এই কৃষকদের মাথায় এখন বিপুল ঋণের বোঝা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুগ্ধ কোম্পানি থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত জল তাদের কৃষিজমিতে জমা হয়েছে। এই দূষিত জল ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। অনেক কৃষক জানান, তাদের ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
ইছাপুর নীলগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নরেন্দ্রনাথ দত্ত এই সমস্যার গভীরতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ওই সংস্থার চারপাশে গড়ে উঠেছে ঘনবসতি। এখানে নিকাশীর মারাত্মক সমস্যা রয়েছে। ফলে মাঠ থেকে জল নামছে না।”
গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অপর্যাপ্ত নিকাশী ব্যবস্থা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
খতিগ্রস্থ কৃষকরা বলেন , “আমরা দাদন নিয়ে এবার চাষ করেছিলাম। এখন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু ঋণ তো রয়েই গেছে। কোম্পানি ক্ষতিপূরণ না দিলে কীভাবে সংসার চালাব, তা বুঝতে পারছি না।”
এই ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলের নেতারা। বিজেপি নেতা রাজু দাস অভিযোগ করেন, “প্রশাসনের সঙ্গে এই বেসরকারি সংস্থার আঁতাত রয়েছে। তাই এই কোম্পানি নির্বিঘ্নে পরিবেশ দূষণ করে যেতে পারছে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের এই দুর্দশার জন্য রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়ী। তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ ও দূষণকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে গুরুতর পরিবেশ দূষণ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, দুগ্ধ কোম্পানির রাসায়নিক বর্জ্য মাটি ও ভূগর্ভস্থ জলের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে।
কৃষকরা এখন তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ, দূষণকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও জমির দূষণমুক্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের দাবি তুলেছেন।
এদিকে, প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কৃষকরা দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।