নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, ১৭ জুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণী (ওবিসি) তালিকায় ৭৬টি নতুন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজশেখর মান্থা ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করে।
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়ের জাতিগোষ্ঠী রয়েছে।
এই আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এটি একটি অহংকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের গৌরবময় জয়। যারা নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বারবার সাংবিধানিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করেছে।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও মন্তব্য করেন, “ওবিসি তালিকায় প্রায় ৯০% নতুন মুসলিম গোষ্ঠীর অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তর্ভুক্তি সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতির প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন। আজকের স্থগিতাদেশ প্রমাণ করে যে আইনের শাসন রাজনৈতিক সুবিধাবাদের ওপর প্রাধান্য পায়।”
সিপিআইএম নেতা ডা. সুজন চক্রবর্তী বলেন, ” রাজ্য সরকার ওবিসি সংরক্ষণ মামলায় আবারও আদালতে অসভ্যতা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছিল। আদালতের নির্দেশ না মানার কারণে রাজ্য সরকার কার্যত উচ্চ আদালতের কাছে থাপ্পড় খেয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই সরকার চায় মানুষ বিপদে পড়ুক। সেই কারণেই আইনকে অমান্য করে ‘যেমন খুশি তেমন চলো’ মনোভাব নিয়ে চলেছে।”
তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেন, “প্রথম দিন থেকেই পরিষ্কার যে ওবিসিদের কল্যাণে, যারা আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে আছে, তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে বিজেপি ও বিরোধী দলনেতা।”
কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, “বিজেপি এই পুরো বিষয়টির সাথে ধর্ম জড়িয়ে একটি বিকৃত প্রচার করে মূল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছে।”
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী রায় বিজেপিকে রাজনীতির রসদ জুগিয়েছে। কুণাল ঘোষ বলেন, “দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি, যখন বিজেপি রাজনীতি করার জন্য ওঁৎ পেতে বসে রয়েছে তখন দেখতে পাই এমন একজন বিচারপতির নাম যিনি আজও এই মামলার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”
এই রায়ের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও আইনি প্রক্রিয়া চলবে বলে প্রত্যাশিত।