ইন্দ্রায়ণী নদীতে সেতু ভেঙ্গে মৃত্যুর মুখে পর্যটকরা: পুনেতে মৃত ২ , নিখোঁজ ৩০

নিজস্ব সংবাদদাতা, পুনে, ১৫ জুন:

পুনে জেলার মাভাল তালুকার ইন্দ্রায়ণী নদীর উপর একটি পুরনো সেতু ভেঙ্গে পড়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫ থেকে ৩০ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৩২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রবিবার সন্ধ্যায় তালেগাঁওয়ের কাছে ইন্দোরি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। উইকএন্ডে বিপুল সংখ্যক পর্যটক কুন্দমালা পর্যটন এলাকা দেখতে এসেছিলেন। সেতুতে অধিক সংখ্যক মানুষের ভিড়ের কারণে পুরনো কাঠামোটি ভেঙে পড়ে এবং অনেকেই ফুলে ওঠা নদীতে পড়ে যান।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতু ভাঙার সাথে সাথেই চিৎকার-চেঁচামেচিতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও প্রবল স্রোতের কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৬ জনকে নদী থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ), স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড এবং এলাকাবাসী মিলে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গত দুদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে প্রবল স্রোত বইছে, যা উদ্ধার কাজে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনভিস এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে লিখেছেন: “পুনে জেলার তালেগাঁওয়ের কাছে ইন্দোরিতে ইন্দ্রায়ণী নদীর উপর সেতু ধসে পড়ার যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই সংবাদ শুনে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। আমরা তাদের পরিবারের শোকে শরিক।”

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কালেক্টর, পুলিশ সুপার এবং এলাকার তহশিলদারের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন। বিভাগীয় কমিশনার ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছেন এবং এনডিআরএফ মোতায়েন করা হয়েছে। “ত্রাণ কাজ তৎক্ষণাৎ ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং সকল সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।”

কুন্দমালা, ইন্দোরি গ্রামের কাছে একটি সুপরিচিত পর্যটনস্থল যেখানে সাধারণত উইকএন্ডে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। ইন্দ্রায়ণী নদীর মনোরম পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এই এলাকা বিখ্যাত।

কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে যে সেতুটি কাঠামোগতভাবে মজবুত ছিল কিনা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলা হয়েছিল কিনা। সেতুটির বয়স এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় প্রশাসন জনগণকে এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং উদ্ধারকারী দলের সাথে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানিয়েছে। আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্নভাবে তাদের আত্মীয়দের খোঁজ করছেন।

এই দুর্ঘটনা আবারও পুরনো অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *