ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টিতে রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্য: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে তেহরানে আগুন, তেল আভিভে মৃত্যু

নিউজ ফ্রন্ট ডেস্ক, ১৬ জুন:

ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ আজ তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। এদিন ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হানায় তেহেরানের একটি তেলের ডিপোয়ে আজ আগুন লেগে গেছে।

ইজরায়েলে হতাহতের পরিস্থিতি:

গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ইজরায়েলে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আভিভ সহ ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে মাঝে মাঝেই আকাশ পথে হানার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

ইজরায়েলের উপকূলবর্তী শহর বাত ইয়ামে একটি বড় আবাসিক ভবন ভেঙে পড়েছে। রেহোভট শহরে ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ৪২ জন আহত হয়েছেন।

ইরানে ইজরায়েলি হামলা:

গত ১৩ জুন ইজরায়েল “অপারেশন রাইজিং লায়ন” নামে ইরানের উপর ব্যাপক হামলা শুরু করে। এই হামলায় ইরানের পরমাণু কেন্দ্র নাতাঞ্জ, সামরিক ঘাঁটি এবং তেহরানের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইজরায়েলি হামলায় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমী এবং তার ডেপুটিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি বলেছেন, “ইজরায়েল যদি আক্রমণ বন্ধ করে, তবেই ইরান প্রত্যাঘাত করা বন্ধ করবে।” ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইজরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে আমেরিকার এই হামলার সাথে “কিছুই করার নেই” তবে ইরান যদি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করে তাহলে তা অবৈধ হবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পকে ফোন করে বলেছেন যে এই যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত।

হাউতি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা:

ইয়েমেনের হাউতি গোষ্ঠী ইরানের সমর্থনে ইজরায়েল বিরোধী অভিযানে যোগ দিয়েছে এবং ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি:

ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের অস্ত্র কারখানার কাছাকাছি বসবাসকারী ইরানিদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইজরায়েলিদের “গুরুত্বপূর্ণ এলাকা” থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছে।

ইরান ইমাম খোমেইনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে এবং নাগরিকদের মসজিদ, স্কুল ও সাবওয়েতে আশ্রয় নিতে বলেছে। ইজরায়েলও তার আকাশসীমা বন্ধ করেছে এবং বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে যা বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *