নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি | ১৩ মে, ২০২৬ নীট (ইউজি) ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে তদন্তের জাল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মূল লক্ষ্য এখন এই চক্রের সাথে যুক্ত মাফিয়া নেটওয়ার্ক। রাজস্থান থেকে শুরু করে হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই দুর্নীতির শিকড় কাটতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে সিবিআই (CBI) এবং রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই এই বিশাল নেটওয়ার্কের একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রাজস্থান এসওজি-র আইজি (IG) অজয় পাল লাম্বা জানিয়েছেন যে, তদন্তের স্বার্থে এবং সুনির্দিষ্ট সন্দেহের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই প্রায় দুই ডজনেরও বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সিবিআই-এর সামনে পেশ করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের গতিবিধি বুঝতে সিকর, আলওয়ার, ঝুনঝুনু এবং জয়পুরের পুলিশ ও এসওজি-র বিশেষ দলগুলি যৌথভাবে কাজ করছে। আইজি অজয় পাল লাম্বা জানিয়েছেন, যাদের কাছে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোর বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিল, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী, তাঁদের বন্ধু এবং অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর যা উঠে এসেছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস ছিল মহারাষ্ট্রের নাসিক। নাসিক থেকে প্রশ্নপত্রটি পৌঁছায় হরিয়ানার এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগেই হরিয়ানা থেকে সেই প্রশ্নপত্র রাজস্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র সামনে আসার পর তদন্তের অভিমুখ এখন মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার দিকে। নাসিকের সেই মূল উৎসটি ঠিক কী এবং কীভাবে প্রশ্নপত্রটি হরিয়ানা হয়ে রাজস্থানে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই বিশাল নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলতে নাসিক ও হরিয়ানার সন্দেহভাজনদের দ্রুত হেফাজতে নেওয়া জরুরি।