২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসার সমস্ত মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ এডিজি-র

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা | ১৩ই মে, ২০২৬

কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অতীতের রাজনৈতিক হিংসার বিচার সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। রাজ্যের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) গতকাল সমস্ত পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং রেলওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার সমস্ত অভিযোগ ও মামলা নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এডিজি-র জারি করা এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হওয়া হিংসার ঘটনাগুলির একটি নতুন তালিকা তৈরি করে পর্যালোচনা করতে হবে। এমনকি যে সমস্ত মামলায় ইতিমধ্যেই ‘ফাইনাল রিপোর্ট’ জমা দিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলিও পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। যদি দেখা যায় যে পূর্ববর্তী তদন্তে কোনো গাফিলতি ছিল, তবে সেই মামলাগুলি পুনরায় চালু (Reopen) করে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করতে হবে।

পাশাপাশি, ওই সময়ে দায়ের হওয়া সমস্ত জেনারেল ডায়েরি (GD) এবং অভিযোগগুলো পুনরায় পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। যদি কোনো অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে, তবে অবিলম্বে নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি জেলা পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে পুলিশি অস্ত্রাগার নিয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে প্রতিটি থানার অস্ত্রাগারে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ শারীরিকভাবে যাচাই (Physical Verification) করতে হবে। এরপর আগামী দুই সপ্তাহ ধরে রাজ্যজুড়ে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হবে।

রাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন এডিজি। সীমান্ত দিয়ে পাচার এবং অপরাধ রুখতে বিএসএফ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করতে হবে। অবৈধ গবাদি পশুর বাজার, বেআইনি কসাইখানা এবং অবৈধ খনির বিরুদ্ধে আপসহীন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ ব্যবসাগুলি যাতে স্থানীয় দুষ্কৃতী বা তোলাবাজদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে।

পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১-এর ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাগুলি পুনরায় খোলার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে বহু পুরনো অভিযোগ নতুন করে গতি পাবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *