চেন্নাই: মঙ্গলবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথম বক্তব্য রাখেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তাঁর ভাষণে রাজনৈতিক সৌজন্য এবং তামিল পরিচিতির (Tamil Identity) ভারসাম্য ফুটে ওঠে।
বক্তব্যের শুরুতেই উদয়নিধি স্ট্যালিন সভার রাজনৈতিক মর্যাদা ও শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সি. জোসেফ বিজয় যখন শপথ নেন, তখন ডিএমকে প্রধান এম.কে. স্ট্যালিনসহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন
“আমরা শাসক ও বিরোধী—ভিন্ন ভিন্ন আসনে বসলেও আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তামিলনাড়ুর সার্বিক উন্নয়ন। রাজ্যের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

ভাষণের এক পর্যায়ে উদয়নিধি একটি সংবেদনশীল বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর পর রাজ্য সঙ্গীত (Tamil Thai Valthu) বাজানো হচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্য সঙ্গীতকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ তামিল জনগণ মেনে নেবে না।
এই প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে বলেন
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হয়নি। কিন্তু তামিলনাড়ুতে এটি বাজানো সত্ত্বেও রাজ্য সঙ্গীতকে অগ্রাধিকার দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।তিনি দাবি করেন, কোনোভাবেই যেন তামিল পরিচিতি ও রাজ্য গানের গরিমা ক্ষুণ্ণ না হয়।

একটু হালকা মেজাজে উদয়নিধি উল্লেখ করেন যে, তিনি এবং মুখ্যমন্ত্রী বিজয় একই কলেজের ছাত্র ছিলেন। এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন যেন সরকার বিরোধী দলের গঠনমূলক পরামর্শগুলিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, “উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সরকারকে সবরকম সহযোগিতা করব, তবে জনগণের অধিকার রক্ষায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা চলবে না।”

উদয়নিধি স্ট্যালিনের এই ভাষণ তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের আমলে এক শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতির জানান দিল। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের প্রতি সৌজন্য এবং অন্যদিকে তামিল ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে আপসহীন মনোভাব—এই দুইয়ের মিশেলে তাঁর আজকের ভাষণটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
