দৌলতাবাদে পাকড়াও তৃণমূল নেতার গাড়ি, উদ্ধার পেটি পেটি মদ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে জেলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে যখন নির্বাচন কমিশন তৎপর আর সেই জন্যই নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের ৯৬ ঘণ্টা আগেই বন্ধ করা হয়েছে সমস্ত মদের কাউন্টার। ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও আবগারি দপ্তর। মঙ্গলবার রাতে দৌলতাবাদ থানা এলাকায় ম্যারাথন ধাওয়া করে আটক করা হলো বিপুল পরিমাণ মদ বোঝাই একটি বিলাসবহুল গাড়ি। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, উদ্ধার হওয়া মদের পেটিগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে ঢাকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বহরমপুর থেকে একটি সাদা রঙের স্করপিও (Scorpio) গাড়িকে নজরে রাখেন আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। গাড়িটি বহরমপুর থেকে রানীনগরের দিকে দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। দৌলতাবাদ থানার ছয়ঘরি–হাসানপুর মোড়ের কাছে পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের যৌথ দল গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে চালক গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘক্ষণ পিছু ধাওয়া করার পর অবশেষে ছয়ঘরি মোড়ে গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে পুলিশ।

গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৯ পেটি (প্রায় ৭০.২ লিটার) বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, পাচারের সময় পুলিশের নজর এড়াতে মদের বাক্সগুলি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ও ফেস্টুন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই গাড়িটি রানীনগরের বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি আব্দুর রহমান জামি ব্যবহার করতেন। নির্বাচনের মুখে শাসকদলের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই জেলা রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির চালকসহ দু’জনকে আটক করে বহরমপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। ধৃতরা জেরায় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আবগারি দপ্তরের ডেপুটি কালেক্টর বিমান ভট্টাচার্য জানান, “আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিলাম যে মদ পাচার হচ্ছে। বহরমপুর থেকেই গাড়িটিকে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত দৌলতাবাদের কাছে গাড়িটি ধরা পড়ে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুরো ২ জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
রানীনগরের কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলি এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলাম যে আব্দুর রহমান জামি নিয়মিত এলাকায় অবৈধ মদের কারবার চালাচ্ছে। পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের এই তৎপরতাকে আমি সাধুবাদ জানাই এবং জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
জুলফিকার আলির দাবি, অভিযানের সময় ওই গাড়িতে অভিযুক্ত জামি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে তিনি চম্পট দিলেও তাঁর দুই সহযোগী ধরা পড়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোটারদের মদ খাইয়ে প্রভাবিত করতেই এই বিপুল পরিমাণ সরবরাহ রানীনগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাসকদলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে বর্তমানে মদের দোকান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ মদ পাচার হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।