“আর কতদিন মুখ বুজে সইবেন?”— বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আবেগঘন খোলা চিঠি
নয়াদিল্লি, ২৩ ফেব্রুয়ারি: বাংলার মাটি থেকে ভয়, হিংসা এবং দুর্নীতি মুছে ফেলে একটি সমৃদ্ধ ‘সোনালী ভবিষ্যৎ’ গড়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বাংলার জনগণের উদ্দেশ্যে একটি দীর্ঘ ও আবেগপূর্ণ চিঠি শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধেও তীব্র শ্লেষ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকারের চরম অসহযোগিতা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষের উন্নয়নে সবসময় সচেষ্ট ছিল। তিনি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বাংলার ৫ কোটি মানুষকে ব্যাংকিং পরিষেবার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অধীনে তৈরি হয়েছে ৮০ লক্ষ শৌচাগার। কিষাণ সম্মান নিধির মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন ৫২ লক্ষ কৃষক। উজ্জ্বলা যোজনায় ১ কোটিরও বেশি পরিবার পেয়েছেন রান্নার গ্যাসের সংযোগ।
রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, একদা সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত বাংলা আজ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং চরম হিংসার কবলে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা আজ সোনার বাংলার গরিমাকে কলঙ্কিত করছে।”
চিঠির শেষাংশে সরাসরি বাংলার মানুষের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, “আমরা আর কতদিন চুপচাপ এই পরিস্থিতি সয়ে যাব? এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে। পরিবর্তন এখন অনিবার্য।” তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছেন এমন এক বাংলার, যা হবে ‘ভয়-মুক্ত, দুর্নীতি-মুক্ত এবং হিংসা-মুক্ত’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাংলার সাধারণ মানুষের আবেগ এবং ঘরোয়া সমস্যার সাথে সংযোগ স্থাপন করতে চাইছেন। এই চিঠি স্রেফ একটি বার্তা নয়, বরং আসন্ন লড়াইয়ের এক রণকৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।