নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি: রাজধানী দিল্লিতে দেশবিরোধী পোস্টার সাঁটানোর রহস্য উদঘাটন করল দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু থেকে মোট ৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং একজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশের দাবি, এর ফলে এক বড়সড় নাশকতার ছক সময় থাকতে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনকে তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলা থেকে এবং ২ জনকে কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ সহযোগিতায় কলকাতায় আত্মগোপন করে থাকা দুই সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করা হয়। তাদের জেরা করেই তামিলনাড়ুর মডিউলটির হদিশ মেলে।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই পুরো চক্রটি পরিচালিত হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে। লস্কর-ই-তৈবা ঘনিষ্ঠ জঙ্গি হ্যান্ডলার শাব্বির আহমেদ এই মডিউলটিকে নির্দেশ দিচ্ছিল। উল্লেখ্য, এই শাব্বিরকে ২০১৯ সালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল গ্রেফতার করেছিল। সাজা শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পর সে পুনরায় ভারতবিরোধী কার্যকলাপ শুরু করে।
গত ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কাশ্মীরি গেটে বেশ কিছু দেশবিরোধী পোস্টার দেখা যায়। সেখানে মোতায়েন থাকা মেট্রো পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধৃতরাই এই পোস্টারগুলি লাগিয়েছিল।
তামিলনাড়ু থেকে ধৃতরা তিরুপুর জেলার উথুকুলি, পল্লডম এবং তিরুমুরুগনপুন্ডি এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করত। তারা প্রত্যেকেই ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করে নিজেদের ভারতীয় পরিচয় দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিল। গ্রেফতারির সময় তাদের কাছ থেকে ৮টি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশি জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দিল্লির পাশাপাশি ভারতের আরও বেশ কিছু বড় শহরে রেকি (Recce) করেছিল। তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা কী ছিল এবং এই মডিউলে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও দিল্লি পুলিশ।