জলঙ্গীতে চায়ের দোকানে তর্কেই সহকর্মীকে পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি তৃণমূল নেতার!

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলঙ্গী: মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী থানার অন্তর্গত ফরিদপুর ভিটাপাড়া মাদ্রাসা মোড়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ্যে এল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের তীব্র ফাটল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল নিয়ে দুই নেতার তর্কের জল গড়ালো আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সিরাজুল ইসলামকে ইতিমধ্যেই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ভিটাপাড়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল নেতা তথা কোয়াক ডাক্তার বাবর আলী এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সিরাজুল ইসলামের মধ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বাবর আলীর দাবি আগামী নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কংগ্রেসই বিপুল ভোটে জয়ী হবে। নিজের দলেরই নেতার বিরোধিতা করে সিরাজুল দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকার ২৩টি বুথেই সিপিএম-কংগ্রেস জোট লিড পাবে।

এই মন্তব্য ঘিরেই দু’পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ, মেজাজ হারিয়ে সিরাজুল হঠাৎই পকেট থেকে একটি পিস্তল বের করে বাবর আলীর দিকে লক্ষ্য করে তেড়ে যান এবং তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেন।

প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সিরাজুলের দাপাদাপির ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সিরাজুল ইসলাম এলাকায় ব্লক সভাপতি আরিফ বিল্লার ‘ছায়া সঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ময়দানে নামে জলঙ্গী থানার পুলিশ। অভিযুক্ত সিরাজুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁর কাছ থেকে একটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আগামীকাল তাঁকে জেলা আদালতে তোলা হবে।

তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই ঘটনায় ফের একবার বেআব্রু হয়ে পড়ল। দলেরই একজন নেতা হয়ে কেন তিনি সিপিএম-কংগ্রেস জোটের লিড পাওয়ার কথা বললেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে তৃণমূলের “ভিতরের ভয়” হিসেবে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *