মুম্বইয়ে মুর্শিদাবাদের শ্রমিকদের ওপর ‘পুলিশি’ তাণ্ডব! ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে বর্বরোচিত নিগ্রহ; উদ্ধার ঘিরে অধীর-রাজ্জাক দ্বৈরথ

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাগরপাড়া/বহরমপুর: ফের ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে চরম লাঞ্ছনা ও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হলেন পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা। এবার অভিযোগের তির খোদ মুম্বই পুলিশের দিকে। ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া ও জলঙ্গি এলাকার পাঁচ যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তর্জা।

মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়া থানার সাহেবনগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গির শেখ এবং খয়রামারি এলাকার আরসালিম খান, ফারুক মোল্লা, মনিরুল ইসলাম ও আসাদুল মোল্লা মুম্বইয়ের কফে প্যারেড এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। অভিযোগ, গত শনিবার ও রবিবার তাঁদের ভাড়াবাড়িতে হানা দেয় মুম্বই পুলিশ।

শ্রমিকদের বয়ান অনুযায়ী, তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলে অমানুষিক নির্যাতন। চড়, লাথি এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারা হয় তাঁদের। পুলিশের দাবি ছিল, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি। যদিও বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও নিগ্রহ থামেনি বলে অভিযোগ। বর্তমানে আহত দুই শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার খবর পৌঁছাতেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক। তবে শ্রমিকদের উদ্ধার কে করেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বাগযুদ্ধ।

রবিবার রাতেই সাংবাদিক বৈঠক করে অধীর চৌধুরী দাবি করেন, তিনি মুম্বইয়ের ডিজি (DG) এবং আইজি-র (IG) সঙ্গে সরাসরি কথা বলে শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। তিনি আক্রান্তদের ছবি দেখিয়ে বলেন, সারাদিন মেহনত করে তাঁদের ছাড়ালাম। মুম্বই পুলিশ তাঁদের যাতা করে দিয়েছে।”

জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক অধীর চৌধুরীর দাবিকে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সাগরপাড়া থানার ওসি খুরশেদ আলম, জেলা প্রশাসন (DM, SP) এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের তৎপরতায় শ্রমিকরা মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, অধীর বাবু সূর্য ডোবার পর শুনে বলছেন উনি উদ্ধার করেছেন, এটা সম্পূর্ণ অসত্য।”

তবে এই রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই আক্রান্ত শ্রমিক মনিরুল ইসলাম একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হস্তক্ষেপেই তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ আমাদের রেস্ট করে মারধর করছিল। লোকাল নেতাদের মাধ্যমে অধীর চৌধুরীর কাছে খবর পৌঁছালে তিনি আমাদের ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। তিনি আমাদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থাও করছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *