ঠিক কী কারণে চরম পথ বেছে নিলেন আলাউদ্দিন?
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু ঘিরে যে উত্তেজনার আগুন জ্বলেছিল, তার জল এখন অনেকটাই পরিষ্কার। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের (Post-Mortem) ফলাফল বলছে, আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়নি; তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যাই করেছিলেন। কিন্তু পুলিসের এই ব্যাখ্যার পরেও একটি বড় প্রশ্ন ঝুলে রয়েছে আলাউদ্দিন কেন আত্মহত্যা করলেন? যদিও আলাউদ্দিনের মা মা সোনা বিবি বারবার দাবী করেছেন তাঁর ছেলে আত্মহত্যা না খুন হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজের নির্দেশে বেলডাঙা থানার সাব-ইন্সপেক্টর তাপস সরকারের নেতৃত্বে একটি দল ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার বিশ্রামপুর থানায় যায়। সেখানে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সেখানে কর্মরত ৮-১০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের কেউই খুনের কোনো ইঙ্গিত বা ষড়যন্ত্রের কথা বলেননি। কাশিম শেখ, যিনি প্রথম ফ্যান থেকে আলাউদ্দিনের দেহ নামিয়েছিলেন, তাঁর বয়ানেও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। এমনকি আলাউদ্দিনের খুড়তুতো ভাই এরশাদ শেখও খুনের কোনো অভিযোগ তোলেননি। তদন্তের প্রতিটি ধাপ বেলডাঙায় থাকা আলাউদ্দিনের পরিবারকে জানানো হয়েছে। এমনকি ঝাড়খণ্ডে থাকা পরিজনদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁদের কথাও বলানো হয়েছে। পুলিসের দাবী তদন্তে পরিবার আপাতত সন্তুষ্ট। যদিও আলাউদ্দিনের পরিবার বা তাঁর সাথে থাকা সহকর্মীরা কেউই এখনও পর্যন্ত আত্মহত্যার কোনও জোরালো কারণ দর্শাতে পারেননি।
আলাউদ্দিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মৃত্যুর কারণ হলো ‘হ্যাংইং অ্যান্টি-মর্টেম‘ (Hanging Ante-mortem), অর্থাৎ জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগানোর ফলে মৃত্যু। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে বাইরে থেকে কোনো আঘাত বা ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফলে খুনের যে অভিযোগ তুলে অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মেলেনি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়ার গুজব ছড়াতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেললাইন স্তব্ধ করা এবং পুলিশের ওপর পাথর ছোঁড়ার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ব্যাপক কড়াকড়ি করতে হয়। এই অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, “পুলিশ সম্ভাব্য সব কিছুই করেছে। সম্পূর্ণ তদন্ত প্রক্রিয়া ভিডিও স্টেটমেন্টের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের সামনে রয়েছে। আমি মুর্শিদাবাদবাসীকে অনুরোধ করব, পুলিশের ওপর আস্থা রাখুন। কোনো গুজবে কান দেবেন না, কিছু জানার থাকলে আগে পুলিশের মাধ্যমে যাচাই করে নিন।”