নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বেলডাঙায় সাম্প্রতিক হিংসাত্মক পরিস্থিতি ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জনতাকে হিংসায় প্ররোচিত করার অভিযোগে শওকত আলি আলবেণী নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সাইবার ক্রাইম থানা। ধৃত যুবক বেলডাঙা থানার জালালপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শওকত আলি আলবেণী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি অত্যন্ত আপত্তিকর এবং প্ররোচনামূলক পোস্ট আপলোড করে। সেই পোস্টে সরাসরি সাধারণ মানুষকে হিংসার পথে নামার এবং আইন হাতে তুলে নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়।
অভিযোগ, ওই পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বেলডাঙা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-12) দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, যার ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শওকত পলাতক ছিল। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা বিষয়টি নিয়ে সুসংগত তদন্ত শুরু করে। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, শওকত একটি গোপন আস্তানায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। অবশেষে পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে হানা দিয়ে তাকে পাকড়াও করে। তার বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ পুলিশ ডিস্ট্রিক্টের সাইবার ক্রাইম থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত শওকত আলিকে আগামিকাল আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার নেপথ্যে আর কার কার হাত রয়েছে এবং বড় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা জানার জন্য অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে (Police Custody) নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারীরা।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ধরণের গুজব বা উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইবার সেল ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। বেলডাঙার ঘটনায় যুক্ত বাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজও জোরকদমে চলছে।