নিজস্ব প্রতিনিধি, ফরাক্কা ও জঙ্গিপুর: মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে বিডিও অফিসে তাণ্ডব ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ধৃত ছয়জন অভিযুক্ত অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন। বুধবার সন্ধ্যায় জঙ্গিপুর আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করার পর তাঁরা জেল থেকে মুক্ত হন। তবে অভিযুক্তদের জেল থেকে বেরোনোর পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যেভাবে ফুলের মালা পরিয়ে ‘বিজয়ী’র সংবর্ধনা দেওয়া হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় জঙ্গিপুর জেল থেকে ওই ছয়জন মুক্তি পেতেই সেখানে ভিড় জমান তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। উপস্থিত ছিলেন ফরাক্কা ব্লক তৃণমূলের বিশেষ অবজারভার তথা বিধায়ক মনিরুল ইসলামের দাদা কাউসার আলী, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি অরুণময় দাস, এবং বিশিষ্ট নেতা বাবলু ঘোষ সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতৃত্ব। জেল থেকে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তদের গলায় বিশালাকার ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় জেল চত্বর।
সরকারি অফিস ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের এভাবে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, ফরাক্কায় যে ঘটনা ঘটেছিল তা কোনও পরিকল্পিত অপরাধ ছিল না, বরং নথিপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বা ‘জনরোষের’ বহিঃপ্রকাশ ছিল। দলীয় নেতৃত্বের মতে, সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে শামিল হতে গিয়েই এই কর্মীরা জেল খেটেছেন, তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো দলের নৈতিক কর্তব্য।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় ‘ধর্মীয় বৈষম্যের’ অভিযোগ তুলে ফরাক্কার বিডিও অফিসে চড়াও হয়েছিলেন বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও তাঁর অনুগামীরা। সেই সময় অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, নথিপত্র লণ্ডভণ্ড করা এবং সরকারি আধিকারিকদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে পুলিশ এই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছিল। কয়েকদিন জেল হেফাজতের পর বুধবার তাঁরা জামিন পেলেন।
সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর চালানো অভিযুক্তদের এভাবে বীরের সম্মান জানানোকে ভালো চোখে দেখছে না বিরোধী দলগুলো। বিজেপির দাবি, এই সংবর্ধনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল কংগ্রেস আইন-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা করে না এবং সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালানোকে তারা উৎসাহিত করছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে—তদন্তাধীন অভিযুক্তদের এভাবে প্রকাশ্যে সংবর্ধনা দেওয়া কি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল?