নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিহরপাড়া: ফরাক্কার বিডিও অফিসে তাণ্ডবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। প্রকাশ্য জনসভা থেকে সাধারণ মানুষকে শুনানিতে অংশ না নেওয়ার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ভোটার তালিকায় ভুল সংশোধন, নাম যাচাই ও পরিচয়পত্র নিশ্চিতকরণের জন্য বহু সাধারণ ভোটারকে নোটিশ পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু হরিহরপাড়ার এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক হুমায়ূন কবীর সাধারণ মানুষকে এই শুনানিতে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। অভিযোগ, তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এর পাশাপাশি তিনি সুর চড়িয়ে বিডিও এবং সংশ্লিষ্ট ইআরও (Electoral Registration Officer)-দের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দেন। বিধায়ক হুমকি দিয়ে বলেন, “যদি ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বিডিও ও ইআরও-দের দেখে নেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভোটর তালিকা সংশোধন একটি সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে সাধারণ মানুষকে এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো এবং কর্তব্যরত সরকারি আধিকারিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনিক মহলের মতে এটি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাজে বাধা দেওয়ার সামিল। সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাজ ব্যাহত হতে পারে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
বিধায়কের এই বার্তার পর হরিহরপাড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ ভোটাররা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। একদিকে নাম বাদ পড়ার ভয়, অন্যদিকে নেতার নির্দেশ অমান্য করার আশঙ্কা। অনেক ভোটারের প্রশ্ন, শুনানিতে না গেলে যদি তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তবে তার দায় কে নেবে?
বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ার ভয়েই তৃণমূল থেকে আসা এই নেতা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন। সিপিআইএম-এর মতে, সরকারি দপ্তর ও আধিকারিকদের ওপর এই ধরণের আক্রমণ আসলে রাজ্যের ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলারই প্রমাণ।
ফরাক্কার ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই কড়া মনোভাব গ্রহণ করেছে। এমতাবস্থায় হরিহরপাড়ায় হুমায়ূন কবীরের এই ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিশন বা জেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।