নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:
রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশের পর প্রথম দিন থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীরের ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। কখনও সৌদি আরব থেকে অতিথি আনা নিয়ে বিভ্রান্তি, তো কখনও স্থানীয় বাউন্সারদের ভিনরাজ্যের বলে চালানোর অভিযোগ— একের পর এক বিভ্রাটের তালিকায় এবার যুক্ত হলো ‘প্রার্থী বিভ্রাট’। সোমবার মঞ্চ থেকে ঘটা করে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন তিনি।

কেন বাতিল হলেন নিশা?
বালিগঞ্জের প্রার্থী পদ থেকে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে হুমায়ুন কবীর তাঁর ‘কুরুচিকর’ সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওকে দায়ী করেছেন। হুমায়ুনের দাবি, নিশার কিছু ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, যা তাঁর দলের আদর্শ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ওনার অঙ্গভঙ্গি ভালো নয়। বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় এই ধরনের মানুষরা অযোগ্য। আমাদের দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে ওনার চরিত্র মানানসই নয়।” তাঁর বক্তব্য, “বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় এমন মানুষদের প্রার্থী করা যায় না। আগামী ৭ দিনের মধ্যে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে একজন ‘যোগ্য’ মুসলিম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নিশার নাম বাতিলের পর হুমায়ুন কবীর যে তথ্য দিয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে হাসির রোল উঠেছে। হুমায়ুন জানান, তৃণমূল নেতা সানিয়াত চৌধুরীর অনুরোধেই তিনি নিশাকে টিকিট দিয়েছিলেন। এই সানিয়াত এখনও তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য। এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে— যে দলের মূল লক্ষ্য তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করা, সেই দল প্রার্থী নির্বাচনের জন্য কেন তৃণমূল নেতার ওপর ভরসা করছে? প্রার্থী ‘সাপ্লাই’-এর জন্য কি শেষ পর্যন্ত শাসক দলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে হুমায়ুনকে? এই ‘বিচিত্র নীতি’ দলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

বালিগঞ্জের প্রার্থী বাতিলের ঘটনা হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের প্রথম ধাক্কা নয়। দল ঘোষণার আগেও কখনও সৌদি আরব থেকে অতিথি আনার দাবি নিয়ে বিভ্রান্তি, কখনও আবার স্থানীয় বাউন্সারদের ভিনরাজ্যের বাউন্সার বলে উপস্থাপন করার মতো ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। নতুন দল ঘোষণার পর সেই বিভ্রান্তির ধারাবাহিকতাই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
এতসব বিতর্কের মাঝেও হুমায়ুন কবীর তাঁর ‘চার হুমায়ুন’ তত্ত্বে অবিচল। রেজিনগর ও বেলডাঙায় তিনি নিজে, রানিনগরে চিকিৎসক হুমায়ুন কবীর এবং ভগবানগোলায় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর লড়বেন। হুমায়ুনের দাবি, ‘হুমায়ুন’ নামটির অর্থ হলো ‘ভাগ্যবান’, আর এই ভাগ্যই তাঁকে ২০২৬-এ ৯০টি আসন জিততে সাহায্য করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দল গড়ার ক্ষেত্রে যে গভীর হোমওয়ার্ক প্রয়োজন, হুমায়ুন কবীরের ক্ষেত্রে তার অভাব স্পষ্ট। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধদের নিয়ে দল গড়তে গিয়ে শুরুতেই এই হোঁচট আসন্ন ব্রিগেড সমাবেশের আগে হুমায়ুনকে ব্যাকফুটে ফেলে দিল কি না, সেটাই এখন দেখার।