মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে চিকিৎসার চরম গাফিলতি! ভাঙল বাঁ পা, ‘অস্ত্রোপচার’ হলো ডান পায়ে

নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর:

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ গাফিলতির অভিযোগ উঠল। রোগীর বাঁ পায়ের হিপ জয়েন্টের হাড় ভাঙলেও, চিকিৎসকেরা সুস্থ ডান পায়ে ‘অস্ত্রোপচার’ বা ট্র্যাকশন (Traction) করেছেন বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের পক্ষ থেকে বহরমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ১৭ ডিসেম্বর সুতি-২ ব্লকের মালোপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেণু বিবি (পরিবারের দাবি অনুযায়ী বয়স ৫০-এর কাছাকাছি, মতান্তরে ৭৫) বাড়ির সিঁড়ি বা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পান। তাঁর বাঁ দিকের ‘হিপ জয়েন্ট’-এর হাড় টুকরো হয়ে যায়। ওই দিন রাতেই তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার ছাড়া হাড় জোড়া সম্ভব নয়।

১৮ ডিসেম্বর রাতে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে (OT) নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, অপারেশন থিয়েটার থেকে যখন রেণু বিবিকে বের করা হয়, দেখা যায় তাঁর সুস্থ ডান পায়ে ব্যান্ডেজ করা এবং সেখানে লোহার রড দিয়ে ‘ট্র্যাকশন’ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে রেণু বিবি নিজেই চিৎকার করে বলতে থাকেন, “ভুল করেছেন… ভুল!”

রোগীর ছেলে মহম্মদ রহিমউদ্দিনের বিস্ফোরক অভিযোগ, “মায়ের বাঁ পা ভেঙেছিল, কিন্তু ডাক্তারবাবু সুস্থ ডান পায়ে অস্ত্রোপচার করে দিয়েছেন। যখন আমি প্রতিবাদ করলাম, তখন তড়িঘড়ি মাকে আবার ওটিতে ঢুকিয়ে ভাঙা বাঁ পায়ে কাজ শুরু করেন।” তিনি আরও জানান, চিকিৎসকের কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি দায়সারাভাবে বলেন যে, রোগী নাকি নিজেই ডান পায়ে ব্যথার কথা বলেছিলেন। রহিমউদ্দিনের প্রশ্ন, ডাক্তাররা কি এক্স-রে প্লেট দেখে চিকিৎসা করেন না? রোগীর কথায় সুস্থ পায়ে অস্ত্রোপচার হয়ে যায়?”

ঘটনা জানাজানি হতেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন পরিজনেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই বিতর্কে হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের ইউনিট-১-এর ইনচার্জ হিরন্ময় দেব এক অদ্ভুত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “পুরো অস্ত্রোপচার হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে লোহার রডের ট্র্যাকশন দেওয়া হয়েছে। তবে সেটি ভুল পায়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”

অন্যদিকে, মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত সুপার অনাদি রায়চৌধুরী জানিয়েছেন ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে ওই বৃদ্ধা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসার পর এখন হাসপাতাল থেকে রোগীকে অন্য জায়গায় ‘রেফার’ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। শনিবার রাতে ওই রোগীর আবার অপেরেসান করা হয়েছে বলে জানান রহিমুদ্দিন

পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে এক্স-রে এবং ক্লিনিকাল রিপোর্ট থাকে, সেখানে কীভাবে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন পায়ের ফারাক করতে ভুল করলেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *