মোদীর সভায় যাওয়ার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত ৩ বিজেপি কর্মী

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ: প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল নদীয়ার তাহেরপুর। শনিবার ভোরে রেল লাইনের ধারে শৌচকর্ম করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞা এলাকার তিন বিজেপি সমর্থক। ঘন কুয়াশা এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় এই মর্মান্তিক পরিণতি বলে প্রাথমিক অনুমান।

মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার সাবলদহ ও মসোড্ডা গ্রাম থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে একটি বাসে করে বিজেপি সমর্থকরা যাচ্ছিলেন নদীয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর ‘সংকল্প সভা’য়।ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে শনিবার ভোর ৪:৩০ মিনিটে নদীয়ার তাহেরপুর ও বাদকুল্লা স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকা।

দীর্ঘ যাত্রা শেষে তাহেরপুরের কাছে বাসটি দাঁড়ালে কয়েকজন যাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রেল লাইনের ধারে নামেন। এলাকাটি ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। শিয়ালদহ গামী কৃষ্ণনগর লোকাল যখন আসছিল, কুয়াশার কারণে তাঁরা ট্রেনের দূরত্ব বুঝতে ভুল করেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বড়ঞা এলাকায় রেল যোগাযোগ না থাকায় ওই গ্রামের অনেক সমর্থকের কাছেই ট্রেন নিয়ে অভিজ্ঞতা কম ছিল। কুতূহলবশত রেল লাইনের খুব কাছে চলে যাওয়া এবং কুয়াশার কারণে বিপত্তি ঘটে।

মৃত ও আহতরা সকলেই মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। মৃতরা হলেন রামপ্রসাদ ঘোষ, শক্তিপদ সূত্রধরএবং গোপীনাথ দাস আহতরা হলেন ভৈরব ঘোষ এবং বিকাশ ঘোষ । তাঁদের কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে বিকাশ ঘোষকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ভৈরব ঘোষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি-র মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর র‍্যালির আড়ালে এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। কোনো বড় নেতা দ্রুত শোকাতুর পরিবারগুলোর পাশে না দাঁড়িয়ে র‍্যালি নিয়ে মেতে ছিলেন বলে তিনি তোপ দাগেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় মৃতদের বাড়িতে যান স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

বিজেপি কর্মী গোপিনাথ দাসের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সভার পর কৃষ্ণনগর হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান। জেলা বিজেপি সভাপতি জানান, সভার ব্যস্ততার কারণে নেতারা শুরুতে পৌঁছাতে না পারলেও, তাঁরা সবরকমভাবে এই পরিবারগুলোর পাশে আছেন।

মৃত রামপ্রসাদ ঘোষের স্ত্রী যমুনা ঘোষ (৬৮), যিনি নিজেও শারীরিকভাবে বিশেষভাবে সক্ষম, কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “খবর পেলাম ও ট্রেনের তলায় কাটা পড়েছে। আমি এখন কীভাবে বাঁচব? কীভাবে সংসার চলবে আমার?” সাবলদহ গ্রাম জুড়ে এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ৩ জনের মরদেহ এসে পৌছায় জেলা বিজেপি কার্যালয়ে। সেখানে তাদের শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *