তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ‘বোমা’ ফাটিয়ে কংগ্রেসে যোগদান
নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর, ২০ ডিসেম্বর:
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তন। গত ১৭ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস ও জেলা পরিষদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর, শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরলেন দাপুটে নেত্রী শাহনাজ বেগম। বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন তিনি।
২০১৬ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শাহনাজের এই ‘ঘর ওয়াপসি’ জেলা রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

“তৃণমূল আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত”: শাহনাজ বেগম
যোগদান সভায় দাঁড়িয়ে শাহনাজ বেগম তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের ভেতরে থেকে সংস্কারের চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি দুর্নীতির সাথে আপোষ করে ‘চোরের জেলা পরিষদ’-এর তকমা নিয়ে থাকতে পারব না। তৃণমূলের নিচুতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত সবাই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।” শাহনাজ দাবি করেন, কংগ্রেসে ক্ষমতার লড়াই বা চুরির জায়গা নেই। এখানে তিনি ‘ফ্রি হ্যান্ড’ কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং জেলাজুড়ে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করবেন।

কংগ্রেসে যোগ দিয়েই জেলা পরিষদের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে নজিরবিহীন সব তথ্য ফাঁস করেন শাহনাজ বেগম। তাঁর দাবি অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ‘ঘোষ দাস কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি সংস্থাকে একাধিক ‘অফলাইন টেন্ডার’ দেওয়া হয়েছে, যার মোট মূল্য এক কোটি টাকারও বেশি। আরটিআই (RTI) সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, হুগলির এক ব্যক্তি পানীয় জলের প্রকল্পের জন্য টেন্ডার জমা দিলেও তাঁকে রহস্যজনকভাবে রাস্তা নির্মাণের (মেমো নং ২৭৫) টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। সভাধিপতির বিরুদ্ধে ‘তেলের স্লিপ কাণ্ড’সহ একাধিক অনৈতিক কাজের বিষয়ে তিনি লিখিতভাবে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শাহনাজ বেগম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আরটিআই-এর যে উত্তর সভাধিপতি দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর উপযুক্ত বিচার না পেলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
শাহনাজ বেগমকে স্বাগত জানিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “শাহনাজ দীর্ঘদিনের লড়াকু নেত্রী। ওঁর বিরুদ্ধে কোনোদিন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের এই উত্থান শাসকদলের ভিত নাড়িয়ে দেবে।” তিনি তৃণমূলের কৌশল নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল এখন কংগ্রেসের ভেতরে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। প্রলোভন দেখিয়ে কিছু লোককে দিয়ে কংগ্রেসকে দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। কিন্তু শাহনাজদের মতো নেতাদের প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে মানুষ আর তৃণমূলের জমানায় সুরক্ষিত নয়।”
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে একসময় সহকারী সভাধিপতি এবং জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী হিসেবে শাহনাজ বেগমের ব্যাপক প্রভাব ছিল। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দলত্যাগের জল্পনার মাঝেই শাহনাজের এই যোগদান তৃণমূলের জেলা সংগঠনে বড়সড় ধস নামাতে পারে। বিশেষ করে শাহনাজ যেভাবে সুনির্দিষ্ট নথিপত্র নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন, তাতে অস্বস্তি বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের।