নিউজ ফ্রন্ট, বহরমপুর:
শীতের আমেজ গায়ে মেখে উৎসবের রঙে সেজে উঠল বহরমপুরের ভাতৃ সংঘ ময়দান। বৃহস্পতিবার, ১৮ই ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল ‘কোলাহল কার্নিভাল ২০২৫’। ‘মাতব এবার একসাথে’—এই সম্প্রীতি ও মিলনের স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য কার্নিভাল চলবে আগামী ২১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত।
কেবলমাত্র আনন্দ বা বিনোদন নয়, ‘কোলাহল কার্নিভাল’-এর উদ্বোধনী দিনটি চিহ্নিত হয়ে থাকল মানবিকতার ছোঁয়ায়। উৎসবের সূচনা লগ্নেই মঞ্চ থেকে এলাকার দুস্থ মানুষদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েই উৎসবের প্রকৃত আনন্দ ভাগ করে নিতে চান তাঁরা।
কার্নিভাল প্রাঙ্গণে পা রাখলেই চোখে পড়বে বৈচিত্র্যের মেলা। ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে রকমারি খাবারের স্টল। পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি নিপুণ হস্তশিল্পের কাজ (হ্যান্ডিক্রাফট) দর্শনার্থীদের প্রশংসা কুড়োচ্ছে। কচিকাঁচাদের জন্য রয়েছে হরেক রকমের খেলনা ও বিনোদনের সামগ্রী, যা মেলা প্রাঙ্গণকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
এবারের কার্নিভালের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘আর্ট অফ লিভিং’-এর অংশগ্রহণ। সংস্থার পক্ষ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক প্রবীণ সদস্যা স্বামী বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণামূলক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শেখা আর বাঁচার আগ্রহ যেদিন শেষ হয়ে যায়, সেদিনই মানুষের প্রকৃত মৃত্যু ঘটে।” এই জীবনমুখী বার্তাই কার্নিভালের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
আয়োজক অর্ণব ও তনুশ্রী জানান, ‘কোলাহল’ নামকরণের সার্থকতা লুকিয়ে আছে এর কর্মপদ্ধতিতে। ৮ থেকে ৮০ সব বয়সের মানুষ যাতে এক ছাদের তলায় ভেদাভেদ ভুলে মিলেমিশে কাজ করতে পারে, সেটাই এই কার্নিভালের মূল দর্শন। বিনোদনের অঙ্গ হিসেবে থাকছে শিশুদের বর্ণময় ‘ফ্যাশন শো’ এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় জেলার নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মুর্শিদাবাদ জেলার শিল্প-সংস্কৃতি এবং স্থানীয় প্রতিভাকে তুলে ধরার পাশাপাশি মানবিকতার যে নজির ‘কোলাহল কার্নিভাল’ তৈরি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী তিন দিন ভাতৃ সংঘ ময়দান যে সাধারণ মানুষের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে, তা উদ্বোধনী দিনের উন্মাদনা থেকেই স্পষ্ট।