নিউজ ফ্রন্ট, ঢাকা: ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক নজিরবিহীন হামলার সাক্ষী থাকল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শুক্রবার শেষ রাতে ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন’-এ হামলা চালায় একদল উন্মত্ত জনতা। ভাঙচুরের পাশাপাশি ভবনের একাংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল এবং কেউ কেউ মাথায় হেলমেট পরে ছিল। হামলাকারীরা ভবনের ভেতরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র এবং বহু দুষ্প্রাপ্য বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করে। এরপর ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন নথিপত্র ও সরঞ্জামে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু ভবনের ভেতরেই নয়, বাইরের রাস্তায় টায়ার ও আবর্জনা স্তূপ করেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলা চলাকালীন আক্রমণকারীদের মুখে ‘নারায়ে তাকবির’ সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান শোনা গিয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি সংস্কৃতির এই ধারক প্রতিষ্ঠানটির ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী এবং বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ছায়ানট’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত ছয় দশক ধরে বাঙালি সঙ্গীত, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা ও প্রসারে এই প্রতিষ্ঠানটি অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ছায়ানট আজ বিশ্বজুড়ে বাঙালির কাছে এক শ্রদ্ধার নাম।
সংবাদপত্র অফিসে হামলার পর এবার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর এই আক্রমণ বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। দেশের প্রথিতযশা শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একটি স্বাধীন দেশে জাতীয় ঐতিহ্যের ধারক এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাঙালির মৌলিক সত্তার ওপর আঘাত।
বর্তমানে ছায়ানট ভবন ও তার আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।