নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা:
রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর নিয়োগ জট ও আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তির খবর এল সুপ্রিম কোর্ট থেকে। ২০১৬ সালের প্যানেলের নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা আরও ৮ মাস বৃদ্ধি করল শীর্ষ আদালত। এর ফলে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর পরিবর্তে আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত সময় পেল স্কুল সার্ভিস কমিশন। একইসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, এই বর্ধিত সময়সীমা পর্যন্ত বেতনসহ কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা।
কেন এই সময়সীমা বৃদ্ধি?
২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিলের নির্দেশের সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিশাল কর্মকাণ্ড শেষ করা অসম্ভব বলে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানায় রাজ্য ও এসএসসি কর্তৃপক্ষ। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনি জটিলতা এবং পারিপার্শ্বিক নানা কারণে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করে মানবিক ও প্রশাসনিক দিক বিবেচনা করে সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
এই রায়ের ফলে ২০১৬ প্যানেলে থাকা যোগ্য শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা অন্তত আগামী বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন এবং নিয়মিত বেতনও পাবেন। যদিও যোগ্য চাকরিহারাদের মতে, এটি একটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকার যদি দ্রুত হলফনামা দিয়ে প্রকৃত যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করে, তবে তাঁদের চাকরি চিরস্থায়ী হওয়ার পথ সুগম হবে।
উল্লেখ্য, শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে পরীক্ষাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্ক্রুটিনি, ভেরিফিকেশন এবং আইনি মারপ্যাঁচের কারণে চূড়ান্ত প্যানেল প্রকাশ করা যায়নি। এসএসসি-র আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মেনে নিয়েছে যে, তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ করতে গেলে ফের ত্রুটি থেকে যেতে পারে, তাই সময় দেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে যখন সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে শুনানি চলছে, ঠিক তখনই কলকাতার রাস্তায় ফের আছড়ে পড়ে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ। শিয়ালদহ থেকে একটি বিশাল মিছিল বের করেন এসএসসির নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি দুটি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যোগ্যদের স্কুলে পাঠাতে হবে। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত বড়সড় ধাক্কা থেকে বেঁচে গেল রাজ্য সরকার। তবে ৩১ আগস্ট, ২০২৬-এর মধ্যে কমিশন স্বচ্ছভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবার।